বিশেষ অপরাধ ও রাজ্য সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:
কালীপুজোর আলোর উৎসবের আবহে খাস কলকাতায় ঘটে গেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়ার ফর্তাবাদ এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে সার্থক সরকার (২৫) নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওই যুবককে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মৃত যুবকের লিভ-ইন পার্টনার তরুণী এবং তাঁর মা—দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
১. গড়িয়ার ফর্তাবাদের হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
-
পরিচয় ও বসবাস: নিহত যুবক সার্থক সরকার পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি ছিল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত তরুণী সঞ্চালিকা বসু আইনের ছাত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে গড়িয়ার ফর্তাবাদের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে তাঁরা লিভ-ইন সম্পর্কে বসবাস করতেন।
-
শনিবার রাতের বিবাদ ও খুন: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে কোনো বিষয় নিয়ে সার্থক ও সঞ্চালিকার মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই উত্তেজনার মুহূর্তে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সার্থকের কাঁধে সজোরে আঘাত করেন সঞ্চালিকা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
-
গ্রেপ্তার ও তদন্ত: এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সঞ্চালিকা বসু এবং তাঁর মা মৌমিতা বসুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঠিক কী কারণে ওই রাতে তাঁদের মধ্যে এই চরম অশান্তি বাধল এবং এই খুনের ঘটনায় তরুণীর মায়ের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
২. অতীতে নিউটাউনের অনুরূপ রহস্যমৃত্যুর স্মৃতি
কলকাতায় বা শহরতলিতে লিভ-ইন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসেও নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়া এলাকায় এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল।
-
তৃষা সাহা কাণ্ড: সেবার একটি ফ্ল্যাট থেকে তৃষা সাহা (২৫) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। একই ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর লিভ-ইন পার্টনার সৌভিক রায়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
-
রহস্য ও ধোঁয়াশা: প্রায় চার মাস ধরে তাঁরা একসঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। তৃষার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন মেলায় তাঁকে মারধর করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা সৌভিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কি না—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘যে রাস্তা দিয়ে এসেছিল, সেই রাস্তা দিয়ে বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের বের করব’, হুঙ্কার শুভেন্দুর
৩. চিন্তার ভাঁজ সমাজবিদ ও প্রশাসনের কপালে
কয়েক মাসের ব্যবধানে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে লিভ-ইন সম্পর্ক ঘিরে এই ধরনের একাধিক রক্তক্ষয়ী ও মর্মান্তিক অপরাধের ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে উদ্বেগ ও সুরক্ষার প্রশ্ন দানা বাঁধছে নাগরিক সমাজে। পুলিশি তদন্ত এগোলে গড়িয়ার এই খুনের নেপথ্যে থাকা আসল সত্য আরও স্পষ্ট হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


