রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙা কিংবা হকার উচ্ছেদ-সব ক্ষেত্রেই বুলডোজারের ব্যবহার দেখা গিয়েছে । বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সোচ্চার হয়েছে এর বিরুদ্ধে। তবে শহরের বুকে এখনও থামেনি বুলডোজারের ব্যবহার। এবার কলকাতা কর্পোরেশন লাগোয়া কিছু রাস্তার দখল নিয়ে বসে থাকা হকারদের উচ্ছেদ অভিযান হল সেই বুলডোজার দিয়েই।
আরও পড়ুনঃ কিছু মানুষ শুধরাচ্ছে না; উদ্ধার প্রায় ২০ বস্তা চাল
ধর্মতলায় পুরনিগমের সদর কার্যালয়ের পিছনের দিকের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান হল শনিবার ৷ এই রাস্তার সিংহভাগটারই দখল নিয়েছিলেন হকাররা। বিরাট অংশ দখল করে যে যেমন পেরেছেন সেভাবে দোকান খুলে দেদার ব্যবসা চালাচ্ছিলেন।
চওড়া রাস্তায় যেখানে পাশাপাশি দুটি লরি কিংবা একটি বড় ট্রাক যাতায়াত করতে পারে সেখানে এই হকারদের দাপটে একটি ছোট চার চাকার গাড়ি ঢুকলেই রীতিমতো থমকে যেত রাস্তা ৷ এমনটাই জানিয়েছেন পুরনিগমের কর্তারা ৷ শুধু গাড়ি নয়, হকারদের দাপটে সমস্যায় পড়তেন পথ চলতি মানুষজনও। এবার সেখানেই চলল অভিযান ৷ তবে এই এলাকার পাশাপাশি এখানকার আরও কয়েকটি জায়গাতেও হকারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ৷ এরপর সেখানেও উচ্ছেদ অভিযান হয় কি না সেটাই এখন দেখার ৷

উচ্ছেদ অভিযানে ছিল কলকাতা কর্পোরেশনের এসডাবলুএম বিভাগের ডাম্পার থেকে শুরু করে বুলডোজার। ছিল পুলিশ বাহিনীও। এদিনের অভিযানে অবশ্য সেভাবে বাধা পেতে হয়নি পুর প্রশাসনকে। তারা অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ রাস্তা ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। হকারদের দোকানের ভাঙা কাঠামো ডাম্পারের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই পিচ রাস্তার কোনও অংশে একটি হকারকেও বসতে দেওয়া হবে না। কারণ, এই সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন পিচ রাস্তায় হকারদের বসার বা কাঠামো নির্মাণের অনুমতি দেয় না।
এমনিতে বুলডোজার নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই ৷ সেই বিতর্ক উপেক্ষা করেই বেআইনি হকারদের লাগাম টানতে বর্তমান সরকারের আমলে কড়া মনোভাব প্রকাশ করে আসছে পুলিশ-প্রশাসন। ফলে শহরের বিভিন্ন হাট বাজার এলাকা থেকে শুরু করে ফুটপাতের শ্রী অনেকটাই ফিরেছে বলে মনে করছেন বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ। ফুটপাতে যাতায়াত করতেও আগের থেকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন নিত্য যাত্রী থেকে শুরু করে অন্যরা ৷
আরও পড়ুনঃ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমনি অধিকারীর কল্যাণীর ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযান
সম্প্রতি এই বেআইনি হকার উচ্ছেদকে ঘিরে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ৷ তিনি বলেন, “সড়ক বা ফুটপাত দিয়ে মানুষের চলার কথা। কিন্তু সেই ফুটপাত যদি বেআইনি ভাবে দখল করে রাখা হয়, তা হলে সেটা চলবে না । কলকাতার বড় বড় চওড়া রাস্তা জনগণের হাঁটার জন্য । ফুটপাত মানুষের যাতায়াতের জন্য । এটা অন্য কাউকে দেওয়ার অধিকার আমায় কেউ দেয়নি । আমি মানুষের ভোটে জয়ী হয়েছি এবং আমার দলের বিধায়করা আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছেন । তাই মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ । তাঁদের কোনও অসুবিধা আমি হতে দিতে পারি না ৷ “


