উত্তরবঙ্গের ফালাকাটার এক সাধারণ শ্রমিকের পরিবারে আড়াই বছরের শিশুকন্যা পূজার মুখে বাসা বেঁধেছিল এক বিশালাকার টিউমার। ক্রমশ বাড়তে থাকা সেই টিউমারের সঙ্গে জ্বর ও নানা শারীরিক অসুস্থতায় চরম বিপদে পড়েছিল পরিবারটি। স্থানীয় চিকিৎসকেরা হাত তুলে নেওয়ার পর আশার আলো প্রায় নিভেই গিয়েছিল। ঠিক সেই সময় আট বছর আগে ‘উত্তরবঙ্গ থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদপ্ত্রের খবরে নজর পড়ে তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষের।
আরও পড়ুনঃ ইংরেজদের অহংকারে এক বিশাল আঘাত; পরাধীন ভারতের বুকে খালি পায়ে ফুটবল বিপ্লবের অমর ইতিহাস
পরবর্তীতে উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিক ও পরিচিতদের মাধ্যমে পূজার চিকিৎসার সমস্ত কাগজপত্র কলকাতায় আনানো হয়। শহরের একাধিক নামী হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পর এগিয়ে আসে উত্তর কলকাতার সজল ঘোষ ও শুভ্রাংশু ভক্ত পরিচালিত জে. এন. রায় হাসপাতাল। সম্পূর্ণ নিখরচায় পূজার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ধাপে ধাপে স্ক্লেরোথেরাপি (Sclerotherapy) এবং পরবর্তীতে একটি বড় ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয় টিউমারটি। এই মানবিক উদ্যোগে সজল ঘোষ, শুভ্রাংশু ভক্তদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন চিকিৎসকও, যাঁরা কোনো পারিশ্রমিক নেননি। পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও। সবার যৌথ প্রচেষ্টায় সফল হয় অস্ত্রোপচার, নতুন জীবন ফিরে পায় পূজা।
আট বছর আগের সেই ছোট্ট পূজা আজ অনেকটাই বড় হয়ে উঠেছে। ফালাকাটায় থেকে এখন সে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে এবং পুরোপুরি সুস্থ। সম্প্রতি কলকাতায় এসে বাবা রমেশের সঙ্গে তিনি দেখা করে যান সেই সমস্ত মানবিক মুখগুলোর সঙ্গে, যাঁদের তৎপরতায় সে জীবন ফিরে পেয়েছিল। পূজার কথায়, “এখন আর কোনো কষ্ট নেই, একদম ভালো আছি।” একটি শিশুর জীবনের এই পরিবর্তন ও হাসিমুখের সাক্ষী হতে পেরে আনন্দিত চিকিৎসকমহল ও সংশ্লিষ্ট মানবিক ব্যক্তিবর্গ।


