বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) অন্দরে সাংবিধানিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত অন্তর্তদন্তমূলক রিপোর্টের জেরে তোলপাড় অব্যাহত পুরো দেশজুড়ে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও পদত্যাগের দাবিতে সোমবারও রাজপথে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকা দাহ এবং সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে একাধিক রাজ্য। আগ্রায় সিইসি-র ব্যক্তিগত বাসভবনের ফটকে ‘গদ্দার’ লিখে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে সিডব্লিউসি (CWC) এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্ব পর্যটন দিবসে বিনিয়োগের সুনামি; পর্যটন খাতে ১২,৫৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগের বার্তা
সিইসি-র বাসভবনে বিক্ষোভ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন
সোমবার উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় বিজয়নগরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের কর্মীরা।
-
ফটকে কালি মাখানো: বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে বাড়ির মূলফটক ও দেওয়ালে কালো স্প্রে দিয়ে লিখে দেন—‘জ্ঞানেশ গদ্দার, জ্ঞানেশ চোর’।
-
যুব কংগ্রেসের তোপ: যুব কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে সেই ছবি পোস্ট করে অভিযোগ করা হয়, সিইসি মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে সাংবিধানিক কাঠামোর অবমূল্যায়ন করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ও বিরোধীদের সংসদীয় কৌশল
কমিশনের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একছত্র ক্ষমতা নিয়ে এবার সরাসরি সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে:
| ক্ষেত্র | নেওয়া আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ |
| সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন | রাকেশকুমার সিংহ নামের এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করে ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। অপর দুই কমিশনারের লিখিত আপত্তি সত্ত্বেও একক সিদ্ধান্তে চালানো এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে ‘আইনবহির্ভূত’ ঘোষণা করে বাতিলের আর্জি জানানো হয়েছে। |
| কংগ্রেস কার্যকরী সমিতি (CWC) | মঙ্গলবার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বসছে সিডব্লিউসি। দলীয় প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণ ও ফর্ম-৬ পরিবর্তনের মাধ্যমে কমিশন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। |
| ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক | বুধবার বিরোধী জোটের বৈঠকে যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের (Impeachment Notice) নোটিস দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। |
আরও পড়ুনঃ বাবুঘাট থেকে আহিরীটোলা; মহালয়ার ভোরে গঙ্গাপাড়ে বাজবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’
রাজ্যে রাজ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও জলকামান
সোমবার মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আছড়ে পড়ে বিক্ষোভের ঢেউ:
-
রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ: জয়পুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিংহ রাজপথে নেমে পুলিশি আটকের মুখোমুখি হন। ভোপালে নির্বাচন কবিহার ও ঝাড়খণ্ড: পাটনায় সিপিআই ও বামদলগুলির প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ছোড়ে। রাঁচিতে সিইও (CEO) দপ্তর ঘেরাও করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিইসি-র কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
-
পশ্চিমবঙ্গ: হাওড়া ময়দান এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস।
-
সিজেপি-র হুমকি: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতা অভিজিৎ দীপকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২ অক্টোবরের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে মুম্বই থেকে দেশব্যাপী স্তব্ধকরণের আন্দোলন শুরু হবে।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ
কংগ্রেসের এই আগ্রাসী অবস্থানের কড়া জবাব দিয়েছে শাসক দল বিজেপি। বিজেপি সাংসদ রাজীবপ্রতাপ রুডি ও রবিশঙ্কর প্রসাদ যৌথভাবে মন্তব্য করেন, নির্বাচনী পরাজয় সুনিশ্চিত দেখলেই সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর আঘাত হানা কংগ্রেসের পুরোনো অভ্যাস। দেশের প্রশাসনিক ও এসআইআর প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাঠগড়ায় তোলার মাধ্যমে কংগ্রেস আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের গৌরব ক্ষুণ্ণ করছে।


