পাক অধিকৃত কাশ্মীরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বড়সড় দুর্ঘটনা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ২১ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মুজাফফরাবাদের কাছে। এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে ঘনিয়েছে সন্দেহের মেঘ, কারণ পিওকে-তে ব্যাপক প্রতিবাদ, হিংসা ও বিদ্রোহের মাঝে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি নীলুম উপত্যকা সেক্টরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জন্য যাচ্ছিল। টেক-অফের পরপরই কারিগরি ত্রুটির কারণে এটি বিধ্বস্ত হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসপিআর জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে থাকা সকল সদস্যই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ সরকারি-ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা বৃদ্ধিই অগ্রাধিকার; জানালেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন
উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অনেকে এই দুর্ঘটনাকে ‘সন্দেহজনক’ বলে উল্লেখ করছেন।এই ঘটনার পটভূমিতে পিওকে-তে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। গত কয়েকদিন ধরে সেখানে খাদ্য, বিদ্যুৎ, জল ও জ্বালানির তীব্র সংকট নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ চলছে। জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
প্রতিবাদ দমনে পাক সেনাবাহিনী কড়া অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নির্দেশে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে খবর।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি বাহিনী প্রতিবাদকারীদের উপর গুলি চালিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টারটি অতিরিক্ত সেনা নিয়ে যাওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয়।
আরও পড়ুনঃ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শুরু, স্বস্তিতে কোচবিহারের সীমান্তবাসী
অনেকে এটিকে ‘দুর্ঘটনা নয়, প্রতিরোধের ফল’ বলে দাবি করছেন, যদিও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।পিওকে-তে দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট, মৌলিক অধিকার হরণ এবং পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এখন ফেটে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা পাকিস্তানের অংশ নই, আমাদের নিজস্ব অধিকার চাই।”
প্রতিবাদকারীদের দাবি, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের উপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ।হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা পিওকে-র উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


