পশ্চিমবঙ্গে আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হতে চলেছে এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে মূল লক্ষ্য রাখা হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের। সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এই টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১০ লক্ষ কিশোরী এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে। ভোটপর্ব এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে কর্মসূচি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও এখন জেলা স্তরে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ তাহলে কি এবার সাইক্লোন?
এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস এমন একটি ভাইরাস, যার সঙ্গে জরায়ুমুখের ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে হওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ জরায়ুমুখের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ভারতে প্রতি বছর কয়েক হাজার নারী এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। সেই কারণেই টিকাকরণকে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় স্তরে এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা করে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পশ্চিমবঙ্গেও এই অভিযান শুরু হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ কিশোরীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রাজ্যগুলিকে ধাপে ধাপে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ ডোজ পৌঁছে গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই অভিযানে মূলত ‘গার্ডাসিল-৪’ ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হবে। এই ভ্যাকসিন এইচপিভির ৬, ১১, ১৬ এবং ১৮ নম্বর স্ট্রেনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। এর মধ্যে ১৬ এবং ১৮ নম্বর স্ট্রেনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়, কারণ জরায়ুমুখের ক্যানসারের অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে এই দুই স্ট্রেনের সম্পর্ক পাওয়া যায়। আগে একাধিক ডোজের নিয়ম থাকলেও বর্তমানে জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি ডোজই দেওয়া হবে নির্দিষ্ট বয়সের কিশোরীদের।
আরও পড়ুনঃ তোলপাড় আমেরিকা; হোয়াইট হাউসের কাছে চলল গুলি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প বয়সে টিকা দিলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত এবং শক্তিশালীভাবে গড়ে ওঠে। সেই কারণেই ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সকে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রচারও শুরু হয়েছে, যাতে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো যায়। কারণ এখনও বহু পরিবার এই ভাইরাস, টিকা অথবা জরায়ুমুখের ক্যানসার সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য জানেন না।
বেসরকারি ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিনের দাম অনেক বেশি হওয়ায় বহু পরিবারের পক্ষে নিয়মিতভাবে এই টিকা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এক একটি ডোজের বাজারমূল্য কয়েক হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। সেই কারণে সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে টিকাকরণকে বড় স্বাস্থ্য কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এই অভিযান চালানো হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোরীরাও এই সুবিধার বাইরে না থাকে।



