বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
উপনির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই বামফ্রন্টের অভ্যন্তরে ক্ষোভ ও অসন্তোষের আগুনে ঘি পড়ল। মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী রেজিনগর বিধানসভা আসনে ফ্রন্টের দীর্ঘদিনের আসন রফা ও শরিকি সমীকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একক সিদ্ধান্তেই প্রার্থী দিয়েছিল সিপিআই(এম)। কিন্তু গণনার ১২ রাউন্ড শেষে ভোটবাক্সে তার নির্মম প্রতিফলন সামনে এল—মাত্র ৩,৭৯৭ ভোট (প্রাথমিক গণনায় ২,৫২২টি ভোট) পেয়ে জামানত হারিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে এল লাল পতাকা।
নির্বাচনের ফলাফলের চেয়েও এখন বাম শিবিরে বেশি চর্চা হচ্ছে—শরিক আরএসপি (RSP)-কে উপেক্ষা করে বিমান বসুর দলের এই “জেদ” কি ফ্রন্টের ঐক্যে স্থায়ী ফাটল ধরিয়ে দিল?
আরও পড়ুনঃ লজ্জা, ধ্বংসাত্বক বিপর্যয় লালেদের; মানুষ জোড়া কেন্দ্র মিলিয়ে বামেদের ১০ হাজার ভোটও দিলো না
ঐতিহাসিক আসন বনাম শরিকি সম্মান: যেখানে ভুল করল সিপিআই(এম)
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রটি বামফ্রন্টের অন্দরে ঐতিহ্যগতভাবেই রিভোলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি বা আরএসপি-র বরাদ্দ আসন হিসেবে পরিচিত। বিগত নির্বাচনগুলিতে এই আসন থেকে আরএসপি প্রার্থীরাই লড়াই করে এসেছেন। কিন্তু এবারের উপনির্বাচনে শরিকি দাবি ও পরামর্শকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সিপিআই(এম) নেতৃত্বের তরফে এককভাবে মহম্মদ সঈদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে:
-
ভোটের ক্ষতি: আরএসপি প্রার্থী দিলে হয়তো এর চেয়ে কিছু কম বা সামান্য বেশি ভোট পেতেন। কিন্তু তাতে রাজনৈতিক ফলাফলে বড় কোনো অলৌকিক পরিবর্তন হতো না।
-
বড় ক্ষতি ঐক্যের: আসন জেতার চেয়েও রাজনীতিতে যা বেশি মূল্যবান—সেই বামফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, বিশ্বাস এবং শরিকি সৌজন্য এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
-
ভুল বার্তা রাজ্যজুড়ে: একটিমাত্র উপনির্বাচনের আসন নিয়ে বড় শরিকের এই একরোখা মনোভাব গোটা রাজ্যজুড়ে কর্মী-সমর্থকদের কাছে “বাম ফ্রন্টে ঐক্য নেই” বলে অত্যন্ত নেতিবাচক ও ভুল বার্তা পৌঁছে দিল।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামে চুরমার পুরোনো রেকর্ড, রেজিনগরে অলৌকিক জয়’; উপনির্বাচনের ফলে ডাবল সাফ সাফাই বিজেপি-র
‘আত্মসমীক্ষা করুন, কমরেড!’: সরব শরিক ও কর্মীরা
রেজিনগরের এই শোচনীয় ফলাফলের পর বামফ্রন্টের নিচু তলার কর্মী ও অন্য শরিক দলগুলির সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলীয় ফোরামে সরব হয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—‘রাজনীতিতে কেবল নিজের দলের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া বা জেদ দেখানোই শেষ কথা নয়, ফ্রন্ট চালাতে গেলে শরিকদের সম্মান দেওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
উপনির্বাচনে বিজেপির অভূতপূর্ব জয়ের বিপরীতে বামেদের এই শোচনীয় ট্র্যাজেডি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব কি কোনো শিক্ষা নেবে, নাকি এই “নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারা”র রাজনীতি অব্যাহত থাকবে—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।


