বিশেষ প্রতিনিধি:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবারের সংঘাতের পর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। “সারারাত তাণ্ডব চলবে” এবং “লুকিয়ে থাকা আন্দোলনকারীদের টেনে বের করা হবে”—তাঁর এই হুঁশিয়ারির পর রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং তাঁকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানায় বামপন্থী সংগঠনগুলি। এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক দাবি করেছেন, তিনি কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য দেননি।
আরও পড়ুনঃ উৎসবের মুখে জোড়া দুশ্চিন্তা; এইমসে ভর্তি বিমান বসু, আলিপুরের হাসপাতালে মীরা ভট্টাচার্য
বিধায়কের সাফাই ও প্রতিক্রিয়া
-
উস্কানির অভিযোগ অস্বীকার: আত্মপক্ষ সমর্থনে শর্বরী মুখোপাধ্যায় জানান, তিনি অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। তাঁর দাবি, হাসপাতালে আহত এবিভিপি সদস্যদের দেখতে গিয়ে তিনি কেবল হামলাকারীদের গ্রেফতারের কথা বলেছিলেন।
-
গণতান্ত্রিক অধিকারের বার্তা: থানায় গিয়ে বিজেপি কর্মীদের ফিরে যেতে বলেছিলেন দাবি করে বিধায়ক বলেন, “গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু সেটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়। আমি কোনো তাণ্ডব চালানোর উস্কানি দিইনি।”
আরও পড়ুনঃ প্রশাসনের ‘রোমান্টিসিজম’! সরকার আছে, সংগঠন নেই; অন্নপূর্ণা কি আদৌ সঠিক নীতি? একই প্রশ্ন বাসে বিনামূল্যে যাত্রা নিয়েও
বিতর্কের নেপথ্যে ঠিক কী বলেছিলেন বিধায়ক?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনে জিবি मीटिंग ঘিরে এবিভিপি এবং এসএফআই-এর মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আহত কয়েকজন এবিভিপি সদস্যকে দেখতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে শর্বরীকে বলতে শোনা যায়:
“আমি সৃজন ভট্টাচার্যকে বলছি, অলিভ দাস, রহমান মল্লিক, অনির্বান, সাগ্নিক সরকার—এদেরকে যদি ১ ঘণ্টার মধ্যে যাদবপুর থানায় সারেন্ডার না করান… তবে যেখানে লুকিয়ে আছে সেখান থেকে টেনে বার করব। সারারাত তাণ্ডব চলবে আজ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নকশাল, মাওবাদী বা দেশবিরোধী কোনো শক্তি চালানো যাবে না।”
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ‘তাণ্ডব’ শব্দটির প্রয়োগ নিয়ে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়। তবে বিধায়কের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যার পরও দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ক্যাম্পাস চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি।


