Saturday, 22 August, 2026
22 August
HomeকলকাতাWB: প্রশাসনের ‘রোমান্টিসিজম’! সরকার আছে, সংগঠন নেই; অন্নপূর্ণা কি আদৌ সঠিক নীতি?...

WB: প্রশাসনের ‘রোমান্টিসিজম’! সরকার আছে, সংগঠন নেই; অন্নপূর্ণা কি আদৌ সঠিক নীতি? একই প্রশ্ন বাসে বিনামূল্যে যাত্রা নিয়েও

নাট-বল্টু শক্ত করার কাজটা শুরুতেই করতে হত।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ প্রতিনিধি:

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণ—শুক্রবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল রাজ্য। কোথাও জেলাশাসক ও বিডিও অফিস ঘেরাও, তো কোথাও মন্ত্রীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন শয়ে শয়ে মহিলা। প্রশ্ন একটাই—প্রকল্পের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ল কেন? যেখানে আগের সরকার প্রায় ২ কোটি মহিলাকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দিতে মাসে ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করত, সেখানে নতুন সরকার ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার জন্য প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করেও কেন জনতার রোষের মুখে? ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে একাধিক প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ত্রুটি।

আরও পড়ুনঃ উৎসবের মুখে জোড়া দুশ্চিন্তা; এইমসে ভর্তি বিমান বসু, আলিপুরের হাসপাতালে মীরা ভট্টাচার্য

১. সাংগঠনিক সেতুর অভাব ও দিকভ্রান্ত সাধারণ মানুষ

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ চালুর সময়ে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস, বুথ স্তরের কর্মীদের সক্রিয় সাহায্য ছিল। সাধারণ মানুষের ফর্ম ফিল-আপ থেকে নথিপত্র জমা দেওয়ার কাজটি দলের ক্যাডাররাই করে দিতেন। কিন্তু বিজেপির ক্ষেত্রে ছবিটা ভিন্ন। নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় এলেও সরকারের নীতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের উপযোগী নিচুতলার সংগঠন এখনও তৈরি হয়নি। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র নারীরা অনলাইন পোর্টাল, আয়সংক্রান্ত জটিল নিয়মকানুনের চক্রব্যূহে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

২. প্রশাসনের ‘রোমান্টিসিজম’ ও তড়িঘড়ি রূপায়ণ

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দ্রুত মেটাতে নতুন সরকারের মধ্যে যে তাড়াহুড়ো দেখা গেছে, তা বিপদের বড় কারণ।

  • আমলাতন্ত্রের অদূরদর্শিতা: সরকার গঠনের পর অন্তত ৬ মাস সময় নিয়ে পুরনো ভাতা চালু রেখে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ডেটাবেস তৈরি, নথি যাচাই ও স্ক্রিনিং করা উচিত ছিল।

  • তালিকা তৈরিতে চরম গলদ: যাচাই প্রক্রিয়ার অসঙ্গতির কারণে একদিকে যেমন প্রকৃত যোগ্য দাবিদার বহু মহিলা তালিকা থেকে বাদ গেছেন, অন্যদিকে একাধিক সচ্ছল ও অযোগ্য ব্যক্তির নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় ঢুকে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্মশহরে রুশ ড্রোন হামলা

৩. নিচুতলার জং ধরা প্রশাসনিক কলকব্জা

প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ ধাপে কাজ করেন নিচুতলার প্রশাসনিক কর্মীরাই। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, গাফিলতি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বে অকেজো হয়ে থাকা পুরোনো আমলাতান্ত্রিক পরিকাঠামো পরিবর্তন না করেই নতুন প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়ায় পুরোনো রোগগুলিই আবার প্রকাশ্যে এসেছে।

৪. সরাসরি নগদ ভাতা নাকি দীর্ঘমেয়াদী স্বনির্ভরতা?

শুধু সরাসরি নগদ টাকা বা বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের মতো সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘমেয়াদে পরিবারকে স্বাবলম্বী করে না। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদ ঢালাও না বিলিয়ে প্রকৃত দুস্থদের চিহ্নিত করা এবং মহিলাদের ঋণ, প্রশিক্ষণ ও শ্রমঘন শিল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর করাই আসল নীতি হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এই বিক্ষোভকে কেবল বিরোধীদের উস্কানি বলে এড়িয়ে গেলে বা চাপের মুখে নতিস্বীকার করে সবাইকে ঢালাও ভাতা দিলে—উভয় ক্ষেত্রেই বিপদে পড়বে সরকার। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা ও দলের সাংগঠনিক ক্ষমতার জন্য এই পরিস্থিতি এখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন