পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই বিজেপির শক্তিশালী মুখ ও নন্দীগ্রামের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী একটি আত্মবিশ্বাসী দাবি করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমি মাঠ থেকে যে এক্সিট পোল দিচ্ছি, তাতে বিজেপি ১৮০-র কম আসন পাবে না। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ছে। হিন্দুরা এবার খোলাখুলি, নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন।”
ভোটের দিন সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যারা মাঠে আছেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁরাই জানেন আসল ছবিটা কী। আমি আপনাদের বলছি, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে। ১৮০-র নিচে নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “এবারের নির্বাচনে হিন্দু ভোটাররা প্রথমবারের মতো এত স্বাধীনভাবে, নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ প্রহর গুণছে বাংলা; নীল বাড়ির লড়াই জিতবে কে?
গত কয়েক বছর ধরে যে ভয়ের পরিবেশ ছিল, তা এবার ভেঙে গেছে। মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। তাঁরা আর তৃণমূলের দুর্নীতি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ ও পরিবারতন্ত্র দেখতে চান না।”শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকেই লড়ছেন। নন্দীগ্রাম তাঁর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম, কাঁথি, তমলুক, ডায়মন্ড হারবার, খড়গপুর দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বিজেপির ভালো ফল আসবে।
উত্তরবঙ্গেও বিজেপির অবস্থান মজবুত বলে তিনি দাবি করেন।তাঁর এই দাবির পর বিজেপি শিবিরে উৎসাহ বেড়েছে। দলের কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, শুভেন্দুবাবু মাঠের বাস্তবতা থেকেই কথা বলছেন। তাঁরা মনে করেন, এবার তৃণমূলের ১৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, দুর্নীতি, চাকরি কেলেঙ্কারি, নারী নিরাপত্তার অভাব এবং সিন্ডিকেটের জুলুম এসব ইস্যুতে মানুষ ক্ষুব্ধ।
আরও পড়ুনঃ আগামী কয়েকটা দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বঙ্গবার্তা-র আবেদন
তাই তাঁরা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবিকে ‘আকাশকুসুম’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্ররা বলছেন, শুভেন্দুবাবু শুধুমাত্র মনোবল বাড়ানোর জন্য এমন অবাস্তব দাবি করছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল আবারও বড় ব্যবধানে জয়লাভ করবে।


