রাজ্যের বেশ কয়েকটি বুথে পুনর্নিবাচনের সম্ভাবনার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল৷ বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের পর এক সাংবাদিক সন্মেলনে তিনি এই ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন ইভিএম টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৭৭টি ইভিএম টেম্পারিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তিনি বলেছেন, যেসব বুথে টেম্পারিং প্রমাণিত হবে, সেখানে ২ মে-র আগেই পুনর্নিবাচন করা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ছাপ্পা, রক্তপাতহীন, মৃত্যুহীন ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের অনন্য নায়ক
মনোজ আগরওয়ালের বক্তব্য
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট করে বলেন, “ইভিএম টেম্পারিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে পুনর্নিবাচন হবে।”
তিনি আরও জানান, অভিযোগগুলোর মধ্যে অনেকগুলোতে ইভিএম বোতামে কালো বা সাদা টেপ লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট পাওয়ার পরই পুনর্নিবাচনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি কোনো বিধানসভা কেন্দ্রে বেশি সংখ্যক বুথে এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে পুরো কেন্দ্রে পুনর্নিবাচনয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটে রেকর্ড ৯১.৪১% ভোট পড়েছে। ভোটের পর বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলো কয়েকটি বুথে ইভিএম-এ টেপ লাগিয়ে বোতাম আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের ফলতা কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি উঠেছে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে কড়া অবস্থান নিয়েছে। মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেছেন, “যেখানে টেপিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, সেই বুথগুলোতে পুনর্নিবাচন করা হবে।”
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কোনো আপস করা হবে না। ইভিএম-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইভিএম টেম্পারিংয়ের অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিজেপি নেতারা দাবি করছেন যে তৃণমূল কর্মীরা ইভিএম-এ হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এসব অভিযোগকে “বিজেপির মিথ্যা প্রচার” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২ মে-র মধ্যে যেসব বুথে টেম্পারিং প্রমাণিত হবে, সেখানে পুনর্নিবাচন করা হবে। এতে করে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এই বক্তব্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন ইভিএম-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
রাজ্যের ভোটাররা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন যে কোন কোন বুথে পুনর্নিবাচন হবে এবং দ্বিতীয় দফার ভোট কতটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।


