কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
দলীয় কাউন্সিলারের বিরোধিতায় দলের ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে এবার পথে নামলেন শহরের তৃণমূল কাউন্সিলাররা। দিলীপকে বাগে আনতে এবার একজোট হয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি দিচ্ছেন তঁারা। দিলীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হোক, রাজ্য নেতৃত্বের কাছে এমনই দাবি জানাবেন শাসকদলের ৩৬ জন কাউন্সিলার।
বুধবার শহরের তৃণমূল কাউন্সিলাররা পুরনিগমে সাংবাদিক সম্মেলন করে দিলীপকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। দিলীপকে পালটা চাপে রাখতেই এই কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যাঁদের বিরুদ্ধে দিলীপ অভিযোগ করেছেন তাঁদেরই আগে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন কাউন্সিলার রঞ্জন শীলশর্মা। তাঁর বক্তব্য, ‘মেয়র, ডেপুটি মেয়রের আগেই প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। আমি কিছু বললাম না, পাড়ার লোকেরা বলল, এটা ঠিক দেখায় না।’
আরও পড়ুনঃ উত্তাল কলকাতা পৌরসভা, পুরসভার অধিবেশনে শাসক- বিরোধী তুমুল তরজা
দিলীপ ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে মেয়র গৌতম দেব এবং ডেপুটি মেয়রকে বারবার কালিমালিপ্ত করছেন বলে দাবি তৃণমূল কাউন্সিলারদের। দিলীপের হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেওয়ার কথাও বলেছেন শাসকদলের কাউন্সিলাররা। পালটা তৃণমূল কাউন্সিলারদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দিলীপ বর্মন। মেয়র এবং ডেপুটি মেয়র যা করছেন সবকিছুর প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি দিলীপের।
আপাতত শিলিগুড়ি পুরনিগমে শাসকদলের অন্দরের কলহ নিয়ে সরগরম শহরের রাজনীতি। বাইরে থেকে তা তারিয়ে তারিয়ে দেখছেন বিরোধী কাউন্সিলাররা। যে বোর্ড দলীয় কাউন্সিলারকে সংযত করতে পারে না, যে বোর্ডের কাউন্সিলারকে থামাতে গোটা বাহিনীকে নামতে হয়েছে সেই বোর্ড না থাকাই ভালো বলে মত শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈনের। তাঁর বক্তব্য, ‘মেয়র নিজের ঘরের কোন্দল সামাল দিতে পারছেন না। বেআইনি নির্মাণ তাঁর দলের একজন কাউন্সিলার সমর্থন করছেন, আবার একদল ভাঙতে যাচ্ছে।’ সিপিএমের পরিষদীয় দলের নেতা নুরুল ইসলামের বক্তব্য, ‘অতীতে কোনও মেয়রের বিরুদ্ধে কোনও মেয়র পারিষদ এভাবে প্রকাশ্যে কথা বলেননি। এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে পুর বোর্ডে কী চলছে। আমরা এই সমস্ত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।’





