শ্রীগঙ্গানগর / জয়পুর:
সন্ত্রাসবাদীরা কি এবার তাদের নাশকতার ধরণ বদলে নিরাপত্তা বাহিনীর ছদ্মবেশ ধারণ করার নতুন কৌশল নিচ্ছে? রাজস্থানের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা শ্রীগঙ্গানগরে যৌথ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ প্রায় ১,০০০ মিটার দৈর্ঘ্যর সেনার নকল ‘কমব্যাট’ কাপড় উদ্ধার করার পর এই আশঙ্কাজনক প্রশ্নটি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।
উদ্ধার হওয়া কাপড়ের প্রিন্ট ও প্যাটার্ন দেখে বোঝা দায় যে এটি আসল না কি নকল! ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমব্যাট পোশাকের হুবহু অনুকরণে তৈরি এই কাপড় গোপনে সরবরাহ করা হতো স্থানীয় বাজারে।
আরও পড়ুনঃ নতুন রণকৌশল; ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এ আকাশ সুরক্ষায় ভারতের ত্রিস্তরীয় মহাবজ্র
ইউপি-র সূত্র ধরে রাজস্থানে চিরুনি তল্লাশি
পুলিশ সূত্রের খবর, গত জুন মাসে উত্তর প্রদেশের বেরেলি জেলা থেকে প্রায় একই ধরণের অবৈধ সেনার পোশাক জব্দ করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রুট ট্র্যাক ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রাজস্থানজুড়ে ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়।
তদন্তের সূত্র ধরে গত ৩০ জুলাই শ্রীগঙ্গানগরে অবৈধ কাপড়ের কারখানার সন্ধান পান গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, এই কারখানাতেই গোপনে মিলিটারি প্যাটার্নের ফ্যাব্রিক তৈরি করে স্থানীয় লালগড় ও সুরাটগড় বাজারের দোকানগুলিতে বিক্রি করা হতো।
আরও পড়ুনঃ ‘ধমকের সংস্কৃতি অতীত, সুরক্ষিত বাংলায় বারবার আসুন’, ‘বিশ সাল বাদ’; লেখিকাকে স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর
অস্ত্র ও হামলার ছক: বর্ধমান জইশ যোগসূত্রের ছায়া
সম্প্রতি বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জইশ-ই-মোহাম্মদ (JeM)-এর এক জঙ্গিকে জেরা করে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, উক্ত জঙ্গি দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর ছদ্মবেশে ছদ্ম-হামলা চালানো এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্যবস্তু করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
এই ঘটনার পরপরই সেনা পোশাকের এই বিশাল চালান উদ্ধারের ঘটনাটিকে কেবল আর্থিক বা বাণিজ্যিক অপরাধ হিসেবে দেখতে রাজি নন গোয়েন্দারা। কোনো বড়সড় জঙ্গি সংগঠন বা নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে এই সাপ্লাই চেইনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর কড়া সতর্কতা
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে:
-
আইনি অপরাধ: সাধারণ বাজারে সেনার অফিসিয়াল কমব্যাট প্যাটার্নের কাপড় বা পোশাক তৈরি, মজুদ রাখা ও বিক্রি করা ভারতীয় আইনে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
-
নিরাপত্তা ঝুঁকি: ছদ্মবেশী পোশাকে সংবেদনশীল সেনা অঞ্চল, সাধারণ ভিড় কিংবা রাজনৈতিক সমাবেশে প্রবেশ করে হামলা চালানো বা বেআইনি কার্যকলাপ চালানো সন্ত্রাসবাদীদের একটি পুরনো ও মারাত্মক কৌশল।
বর্তমানে রাজস্থান পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে, শ্রীগঙ্গানগর ও বেরেলির এই নেটওয়ার্ক রাজস্থানের বাইরে অন্য কোনো রাজ্যে বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে কোনো সন্দেহভাজন গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছেছিল কি না।


