বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তির আবহে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার ঢাকার তরফে স্পষ্ট বার্তা, ‘নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের হিংসার কোনও জায়গা নেই’, এবং এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না ।
আরও পড়ুনঃ ‘দিদিমার কৃপায় বাংলাতেও দেখতে হবে আগুন!’ বললেন তথাগত
নিহত যুবকের নাম দীপুচন্দ্র দাস। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দুবালিয়া পাড়ায় ভাড়াবাড়িতে থাকতেন এবং একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ স্থানীয় কয়েক জন তাঁকে নবী মহম্মদ সম্পর্কে কটূক্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করে মারধর করে। সেই হামলাতেই মৃত্যু হয় দীপুর।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা আমরা গভীরভাবে নিন্দা করছি। নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের হিংসার কোনও স্থান নেই। এই নৃশংস অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না।” একই সঙ্গে নাগরিকদের সব ধরনের হিংসা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, ‘কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ভয়, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, যা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশ এই মুহূর্তে এক গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে অশান্তি তৈরি করে শান্তির পথ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটেই ঢাকা-সহ বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির। তিনি আগের সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং শেখ হাসিনা ও ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরই হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই বিক্ষোভ ক্রমে অগ্নিসংযোগ ও হামলার রূপ নেয়।
আরও পড়ুনঃ বর্বর বাংলাদেশ! মৌলবাদীদের তাণ্ডবে বন্ধ একাধিক সংবাদপত্র
ঢাকায় দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসে হামলা ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। বহু সাংবাদিক সেই সময় ভবনের ভিতরে আটকে পড়েন। এই প্রসঙ্গে ইউনুস সরকার ওই সংবাদমাধ্যমগুলির সাংবাদিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাংবাদিকদের উপর হামলা মানে সত্যের উপর হামলা। আপনারা যে সন্ত্রাসের মধ্যেও সাহস ও সংযম দেখিয়েছেন, দেশ তা দেখেছে। আমরা সম্পূর্ণ বিচার নিশ্চিত করব।”
অশান্তির আঁচ পড়েছে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানেও। বিক্ষোভকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন ও একাধিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বিক্ষোভে প্রবল ভারত-বিরোধী সুর শোনা যাচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, হাদির হত্যাকারীরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। সেই অভিযোগে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন বন্ধের দাবিও উঠেছে।
সামনে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। তার ঠিক দু’মাস আগে ফের অস্থিরতায় দেশ। এই পরিস্থিতিতে সংযম ও হিংসামুক্ত পথেই এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে ইউনুস সরকার।





