পিকনিকের আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল বিষাদে। বন্ধুকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেও, নিজে আর পাড়ে ফেরা হলো না বর্ধমানের যুবক দীপঙ্কর শীলের। বীরত্ব আর বন্ধুত্বের এক করুণ পরিণতির সাক্ষী থাকল বর্ধমানের কাঞ্চননগর। নতুন বছরের আনন্দ উৎসবের মাঝেই নেমে এল অন্ধকার। বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে ডিভিসি-র (DVC) সেচখালের জলে তলিয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। মৃত যুবকের নাম দীপঙ্কর শীল (৩৩)। তাঁর বাড়ি বর্ধমান শহরের রথতলা পুরাতন কলোনী এলাকায়। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কাঞ্চননগর চণ্ডীতলা সংলগ্ন সেচখালে।
আরও পরুনঃ বাজারে মিশ্র ছবি! শাকসবজির দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নববর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কাঞ্চননগর চণ্ডীতলা এলাকায় ডিভিসি সেচখালের ধারে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন একদল যুবক। দুপুর নাগাদ তাঁদেরই একজন বিজয় দাস স্নান করতে সেচখালের জলে নামেন। কিন্তু খালের জলে আচমকাই তিনি তলিয়ে যেতে শুরু করেন বন্ধুকে ডুবতে দেখে স্থির থাকতে পারেননি দীপঙ্কর শীল।
নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে বিজয়কে বাঁচাতে তৎক্ষণাৎ ঝাঁপ দেন জলে। দীপঙ্করের অদম্য চেষ্টায় বিজয় দাস কোনওমতে পাড়ে উঠে আসতে সক্ষম হলেও, বিপত্তি ঘটে ঠিক তারপরেই। উদ্ধার করতে গিয়ে ক্লান্ত দীপঙ্কর নিজেই জলের তলায় তলিয়ে যান।
আরও পরুনঃ শীতের আমেজ আরও গাঢ়; বছরের প্রথমেও শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং অব্যাহত
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর সেচখাল থেকে দীপঙ্করের নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। নববর্ষের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে হাহাকারে পরিণত হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস। শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিধায়ক জানান, “চাষের কাজের জন্য গতকাল থেকেই সেচখালে জল ছাড়া হয়েছে। প্রতি বছরই এখানে হাজার হাজার মানুষ পিকনিক করতে আসেন। দুর্ভাগ্যবশত প্রতি বছরই এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।” পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।





