বিশেষ প্রতিনিধি:
সময়টা ১৯৪৬ সাল। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগুনে তখন জ্বলছে সমগ্র কলকাতা। উত্তর ও মধ্য কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে হিংসার তাণ্ডব ক্রমশ গ্রাস করছিল দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর, হাজরা ও কালীঘাট এলাকাকে। ঠিক সেই অভিশপ্ত মুহূর্তে দাঙ্গাকারীরা যখন কালীঘাট ট্রাম ডিপো আক্রমণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসছিল, তখন হাজরা মোড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন একদল অকুতোভয় তরুণ। সেই দলেরই অগ্রভাগে ছিলেন লুনার ক্লাবের সদস্য—অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়, যিনি পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মহানায়ক উত্তম কুমার’ নামে অমর হয়ে আছেন।
আরও পড়ুনঃ আর্থিক প্রতারণা ও জমি দখল; গ্রেপ্তার তারকেশ্বর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম কুন্ডু
পর্দার নায়কের ভেতরের লড়াকু অরুণ কুমার
-
শারীরিক সক্ষমতা ও সাহসিকতা: রূপোলি পর্দায় পা রাখার বহু আগেই বাস্তবে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। নিয়মিত যোগাভ্যাস, কুস্তি ও লাঠি খেলায় পারদর্শী তরুণ অরুণ কুমার ছিলেন সাঁতারে ১০০ ইয়ার্ডের চ্যাম্পিয়ন।
-
নারীসুরক্ষা ও ত্রাণকার্য: সেদিন হাজরা মোড়ে দাঙ্গাকারীদের হাত থেকে এলাকার মা-বোনেদের রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। দাঙ্গাকারীদের প্রতিহত করার পর থামেননি; শহরের বিভিন্ন প্রান্তের রক্তাক্ত ও বিপন্ন মানুষের কাছে খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে জীবন বাজি রেখে ছুটে বেরিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ! সাংবিধানিক পরিবর্তনের আড়ালে কি সেনার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি?
শতবর্ষে মণিরত্ন উদ্ধারের প্রয়াস
মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে তাঁর জীবনের এই অজানা ও ঐতিহাসিক অধ্যায়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পর্দার রোমান্টিক নায়কের পেছনের এই অকুতোভয় নাগরিক ও সমাজসেবী রূপটিকে তুলে ধরতে বেশ কিছু গবেষণা ও সৃষ্টিশীল কাজ চলছে। লুনার ক্লাবের সেই রক্তক্ষয়ী দিনগুলির বীরত্বগাথা খুব শীঘ্রই কোনো গ্রন্থ কিংবা সেলুলয়েডের পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠতে চলেছে।


