মাইনুল ইসলাম রাজু, বাংলাদেশঃ
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ও বর্তমানে পরিত্যক্ত বাসভবন ‘সুধা সদন’ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবকের নাম মহম্মদ শাকিল (২২)। ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ ‘এই জয় কার্গিলের..,’ পাকিস্তান-বধ করে শহিদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জাদুমণির
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত পরিত্যক্ত সুধা সদনের ভেতরে এক যুবককে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট গিয়ে আঙুলের ছাপ ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ধানমন্ডি থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুনঃ যন্তর মন্তর থেকে পাঞ্জাব; রাজনৈতিক অঙ্ক বদলে দিতে পারে কি ককরোচ জনতা পার্টি?
উল্লেখ্য, ‘সুধা সদন’ কেবল একটি ভবন নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী, বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ডাকনাম ‘সুধা মিয়া’-র নামানুসারে এই বাড়ির নামকরণ করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে এটি শেখ হাসিনার বাসভবন ও আওয়ামি লিগের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুধা সদন। এরপর থেকেই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
দীর্ঘদিন জনমানবহীন এই কড়া নজরদারির জায়গায় কীভাবে ওই যুবক প্রবেশ করলেন এবং মৃত্যুর আগে সেখানে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল কি না—তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেনসিক তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন তদন্তকারীরা।


