জল্পনায় অবশেষে সিলমোহর পড়ল। বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির হাত ধরল নতুন জন্ম নেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি) জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটে সামিল হয়েছে রবিবার। সব মিলিয়ে দশ দলের এই জোটের সঙ্গে এবারে নির্বাচনে লড়াই হবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের।
গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব তারাই এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা। প্রকাশ্যে ঘোষণা করা না হলেও এই পার্টির অঘোষিত উপদেষ্টা হলেন মহম্মদ ইউনুস। জানা যাচ্ছে তাঁর পরামর্শেই এনসিপি শেষ পর্যন্ত নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জামাতের হাত ধরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিষাক্ত কণা ঢুকছে মানুষের ফুসফুসে; শীতে কাঠ, প্লাস্টিক পুড়িয়ে বাড়ছে কলকাতার বায়ু দূষণ
বিগত কয়েক মাস নতুন তৈরি এই দলটি বিএনপির সঙ্গে জোট করতে নানাভাবে চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত এনসিপি চাহিদা মত আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। তবে জামাতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী বোঝাপড়ার আরো একটি কারণ হলো একদিকে কট্টর ইসলামপন্থী দলটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। অন্যদিকে এনসিপি নেতৃত্ব ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ এ হাসিনা সরকারের পতনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
জামাতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলের জোটে শেষ পর্যন্ত এনসিপি কতগুলি আসনে প্রার্থী দিতে পারবে তা অবশ্য রবিবার স্পষ্ট করা হয়নি। ঢাকা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক বৈঠকে জামাতের আমির শফিকুর রহমান শুধুমাত্র জোটের ঘোষণা করেছেন।

তাৎপর্যপূর্ণ হল এনসিপি নেতারা কিছুদিন আগে পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামি এখনও পর্যন্ত সে পথে হাঁটেনি।
আরও পড়ুনঃ এনসিপি-র অন্দরে ফাটল আরও চওড়া! এনসিপি ছাড়লেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা
মনে করা হচ্ছে কৌশলগত কারণে জামাত নেতৃত্বও এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়া চাইছিল। বিশেষ করে তরুণ ও যুবা ভোটারদের সমর্থন পেতে এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতা ইতিবাচক হতে পারে বলে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন।
অন্যদিকে এনসিপি মনে করছে জাতীয় সংসদে তারা নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারলে দলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হবে তাই শুধু নয়, ২০২৪ এর তথাকথিত জুলাই বিপ্লব নিয়েও জনগণের মনে প্রশ্ন উঠে যাবে। এমনীতেই রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে তেমন শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। ফলে জোট ছাড়া আসল জয় দূরের কথা জমানত রক্ষা করাও তাদের পক্ষে কঠিন।









