নিজস্ব সংবাদদাতা, হাভানা:
লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ফের উত্তাপ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র শক্তি-সংঘাতের আবহে কিউবা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনও আপস করবে না। রাজধানী হাভানার এক জনসমাবেশে কিউবার রাষ্ট্রপতি Miguel Díaz-Canel দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার জন্য কিউবা প্রয়োজনে রক্ত ও জীবন দিতেও প্রস্তুত।
আরও পড়ুনঃ ‘রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে…’ ভেনেজুয়েলা আবহে ভারতকে বড় হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে আবেগের পাশাপাশি ছিল কৌশলগত বার্তাও। তাঁর কথায়, ভেনেজুয়েলা কেবল একটি মিত্র রাষ্ট্র নয়, বরং কিউবার বিপ্লবী ইতিহাস ও লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতার সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনও বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ কিউবা মেনে নেবে না বলেই স্পষ্ট করেন তিনি। সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে তখন একটাই স্লোগান—ভেনেজুয়েলার পাশে কিউবা।
এই ঘোষণার পটভূমিতে রয়েছে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ ও সামরিক উত্তেজনা। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক অবরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছে কারাকাস। কিউবার অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশলমাত্র। রাষ্ট্রপতি দিয়াজ-কানেল বলেন, যে শক্তি ভেনেজুয়েলার সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে, তারা আসলে গোটা লাতিন আমেরিকার আত্মমর্যাদার উপর আঘাত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার এই অবস্থান শুধু আদর্শগত নয়, বাস্তব কৌশলের সঙ্গেও জড়িত। জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে কিউবার প্রকাশ্য সমর্থন সেই ঐতিহাসিক বন্ধনকেই নতুন করে সামনে আনল।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত আসতে শুরু করেছে। একদিকে যেমন কিউবার বক্তব্যকে সমর্থন করছেন কয়েকটি লাতিন ও আফ্রিকার দেশ, অন্যদিকে পশ্চিমি শক্তির তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কূটনীতিক মহলের মতে, এই বক্তব্য লাতিন আমেরিকায় নতুন করে মেরুকরণ বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুনঃ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু? পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ!
তবে কিউবার সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি কেবল কূটনৈতিক হিসাব নয়, বরং আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। সমাবেশ শেষে এক প্রবীণ বিপ্লবী বলেন, আমরা যেমন নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়েছি, তেমনই ভেনেজুয়েলাও আজ লড়ছে। এই লড়াইয়ে পাশে থাকা আমাদের কর্তব্য।
হাভানা থেকে আসা এই বার্তা স্পষ্ট, ভেনেজুয়েলার প্রশ্নে কিউবা নিরপেক্ষ নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির দাবার বোর্ডে লাতিন আমেরিকার এই দুই দেশ যে একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে প্রস্তুত, তা আর গোপন রইল না।









