৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি না-হলে বিধানসভার ভোট করা যাবে না বলে দাবি তুলেছে বামেরা। এবং সেই দাবিতে কমিশন দফতরের অদূরে ‘রাতদখল’ও করেছে তারা। কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীর মুখেও একই দাবি শোনা গিয়েছে। আর এই একই কমিশনের সদর দফতর লক্ষ্য করে নিত্যদিন তোপ দাগছে শাসকদল তৃণমূল।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যে-গতিতে বিবেচনাধীন নাম নিয়ে বিবেচনা চলছে, তাতে করে ৬০ লক্ষ নাম নিয়ে বিবেচনা করতে তিন-চারমাস লেগে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এদিকে, ৭ মে-র মধ্যে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন না-হলে, সাংবিধানিক রীতিনীতি অনুযায়ী আপনা থেকেই চলতি সরকার পড়ে যাবে। এবং রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।
আরও পড়ুনঃ বড় জল্পনা! বাংলায় কি জারি হবে Article 356!
এহেন জল্পনার পালে প্রবল হাওয়া তুলেছে রাজ্যপাল-বদল। সিভি আনন্দ বোস-এর উপর ভরসা করতে না-পেরে আর এন রবিকে কলকাতার রাজভবনে (লোকভবনে) নিয়ে আসছেন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। তামিলনাড়ুতে শাসকদল ডিএমকে-র সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ ইতিমধ্যেই চর্চিচ। সংশ্লিষ্ট মহলে খবর, কেন্দ্রের বন্ধু ও রাজ্যের শত্রু হিসেবে জগদীপ ধনখড় ও সিভি আনন্দ বোস-কে অনেক পিছনে ফেলে দেবেন এই আইপিএস তথা প্রাক্তন পুলিস কর্তা। আমলা মহল মনে করছে, যদি সত্যিই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হয় বাংলায়, তখন ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর এই প্রাক্তন কর্তা বিজেপি সরকারের কাছে ‘আদর্শ ভূমিকা’ রাখতে পারবেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলার রাষ্ট্রপতি শাসন জারির বিপক্ষে রয়েছে বিজেপির একটা বড় অংশ। সে রাজ্যের নেতৃত্ব হোক কি সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। কারণ, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে, চালিয়ে ভিকটিম কার্ড খেলবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং, তাতে করে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চের দিকেই সহানুভূতির হাওয়া ঘুরে যেতে পারে। তৃণমূল-বিরোধী ভোটও তখন তৃণমূলমুখী হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক এটাই ছাইছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আর সেই কারণে, বঙ্গবিজেপি নেতৃত্ব কিন্তু সাম্প্রতিককালে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা মুখেও আনছে না।
আরও পড়ুনঃ তড়িঘড়ি পদক্ষেপ! খাস কলকাতায় টানা ২ মাস সব ধরনের জমায়েত-বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা
পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১৪ তে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর, নাগাল্যান্ড ছাড়া সেভাবে কোথাও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়নি। আর তার কারণ, কংগ্রেস তথা ইন্দিরা গান্ধীর সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিল। ইন্দিরা একাই ৫০ বার সংবিধানের এই ৩৫৬ ধারার অপপ্রয়োগ করেছেন বলে দাবি। শুধু তা-ই নয়। ১৯৯২ সালে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বিজেপি-শাসিত ৩ রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেন কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও। তাই, কংগ্রেস ঘরানার বিরুদ্ধে বিজেপির ঘোষিত অবস্থান: কোনও রাজ্যে সরকার ফেলে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নয়। যদিও, গত ১০-১২ বছরে দল ভাঙিয়ে ঘর ভাঙিয়ে গেরুয়া সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়ে চলেছে ক্রমাগত। তবে সে কথা ভিন্ন।
এমতাবস্থায়, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলে তৃণমূলের পক্ষে সহানুভূতির হাওয়া ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করছে বিজেপি। আর অন্যদিকে দলের ঘোষিত অবস্থানের বিরুদ্ধেও যেতে চাইছে না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটা বড় অংশ। সূত্রের খবর, স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীই বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের বিপক্ষে। কারণ, শেষ অবধি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে যদি বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে বিজেপিকে, তাহলে সেই বিজয় আর যা-ই হোক, গৌরবের নয়। এমতাবস্থায় মনে করা হচ্ছে, ৬০ লক্ষর ভোটভাগ্য ঝুলিয়ে রেখেই বাংলায় ভোট ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এবং, ভালো ছেলের মতো চুপ-চাপ তা মেনেও নেবে রাজ্যের শাসকদল, এমনকি, বাম-কংগ্রেসের মতো বিরোধীরাও।









