নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আগেই রণংদেহি মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার ঠিক আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর সরাসরি অভিযোগ, কমিশনের লেটারহেডে কেন বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক?
আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গকে বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছেন! কে?
সম্প্রতি কমিশনের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির লোগো থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “কমিশন যে নিরপেক্ষ নয়, তা আজ প্রমাণিত। ওদের নোটিফিকেশনে কেন বিজেপির সিম্বল থাকবে? ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে।” বিষয়টিকে ‘ক্ল্যারিক্যাল মিসটেক’ বা করণিক ভুল হিসেবে মানতে নারাজ মমতা। গেরুয়া শিবিরকে তোপ দেগে তাঁর প্রশ্ন, “পিছনের দরজা দিয়ে খেলছেন কেন? ক্ষমতা থাকলে সামনাসামনি লড়াই করুন। একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে আমরা সব দলকে একজোট হতে বলছি।

নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের ঘনঘন রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এসআইআর (SIR) সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট। মমতা প্রশ্ন তোলেন, কেন গভীর রাতে এই তালিকা প্রকাশ করা হলো? কেন এখনও বুথ বা ব্লক স্তরে সেই লিস্ট টাঙানো হয়নি?
আরও পড়ুনঃ ফের রদবদল! এবার ৭৩ রিটার্নিং অফিসারকে বদলি কমিশনের
তালিকায় নাম না থাকা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতায় আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা বলেন, “গতকালেও দু’জন আত্মহত্যা করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২২০ জন মানুষ মারা গেলেন। এই মৃত্যুর দায় কার?” তাঁর দাবি, তৃণমূল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বলেই কিছু নাম অন্তত তালিকায় উঠেছে। কিন্তু এখন সেই তালিকা জনসমক্ষে আনতে কমিশনের ভয় কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “নিশ্চয়ই স্বচ্ছতার অভাব আছে, নয়তো লিস্ট বের করতে এত দেরি কেন? একতরফাভাবে কি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পছন্দের নাম ঢোকানো হয়েছে?”
উপসংহার: ভোটের ময়দানে নামার আগে মমতার এই ‘কমিশন-বাণ’ যে রাজনৈতিক উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবারের লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও তিনি বিনা যুদ্ধে ছাড়বেন না।



