প্রথম দেখাতেই মনে হবে তিনি বঙ্গদেশের প্রাচীন কোনো রাজা। আর যেমন রাজামশাই তেমনি তাঁর রানী মা। রাজার নামে স্থান মাহাত্ম্য। রাজার নাম রাম রাজা। আর তাঁর নামেই এই জায়গার নাম রামরাজাতলা, লোকমুখে রামতলা।
হাওড়া জেলার সাঁতরাগাছি অঞ্চল সংলগ্ন প্রাচীন জনপদ। সংস্কৃত পন্ডিত, তার্কিক, বেদাঙ্গ-বেদান্ত চর্চার কারণে অঞ্চলে সরস্বতী পুজোর চল ছিল। সেই স্থানই কালক্রমে হয়ে উঠল রাম রাজার জনপদ। কী করে ঘটল এই বদল? সেই কাহিনি জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে আনুমানিক তিনশো বছর আগে..
সেই সময় সাঁত্রাগাছি অঞ্চলের জমিদার ছিলেন অযোধ্যারাম চৌধুরী। তিনি স্বপ্নাদেশ পান রামসীতার মূর্তি তৈরী করে পুজো শুরু করার। আয়োজনে কোনও ত্রুটি হল না, কুলপণ্ডিত হলধর ন্যায়রত্নের পরামর্শে সেই মূর্তিও তিনি মহাসমারোহে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আরও পড়ুনঃ সত্যিই কি এনার্জি লকডাউন হবে! উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
কিন্তু বাধা এল স্থানীয় মানুষের থেকে…
কারণ সেই সরস্বতী পুজো। এই অঞ্চলে ধূমধাম করে সরস্বতী পুজো হত। স্থানীয় জন সাধারণ মেতে উঠত সেই উৎসবে। এখন নতুন করে সেই পুজোর জায়গায় রামপুজো হলে কি বদলে যাবে সব রীতি রেওয়াজ? শেষ পর্যন্ত জমিদার মশাই সকলের সঙ্গে আলোচনা করে স্থির করলেন রামপুজো হবে কিন্তু রামসীতার উপরে স্থান পাবেন বাগদেবী। সরস্বতী পুজোর দিন থেকে শুরু হবে রামসীতার মূর্তি তৈরীর কাজ। এই সমাধানের পথেই গড়ে উঠল নতুন রীতি। সকলে তা মেনেও নিলেন..
আজও সরস্বতী পুজোর দিন রামরাজাতলার কাছে নির্দিষ্ট বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে সূচনা হয় রামপুজোর। রামের মূর্তির উপরে থাকে দেবী সরস্বতীর পাঁচটি মূর্তি। এছাড়াও শিব, ব্রহ্মা সহ প্রায় আরো ২৬টি দেবদেবীর মূর্তি থাকে, ২৮ ফুট উচ্চতার সুবিশাল রাম মূর্তির সঙ্গে। এছাড়া আছেন দেবী জগদ্ধাত্রী-র দুটি মূর্তি, এক্কেবারে উপরে বসুদেব, রামের দুইপাশে লক্ষণ, ভরত, শত্রুঘ্ন, বিভীষণ, হনুমান, জাম্বুবান, শিবের অনুচর নন্দী-ভূঙ্গি ইত্যাদি।
আরও পড়ুনঃ শঙ্খধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে শপথ নিলেন বলেন্দ্র শাহ
রামনবমী তিথিতে রামসীতার আনুষ্ঠানিক পুজো শুরু হয়। চলে চার মাস ধরে। শ্রাবণ মাসের শেষ রবিবার হয় বিসর্জন। এখন রামঠাকুরের জন্য তৈরি হয়েছে স্থায়ী মন্দির। শ্বেতপাথরে মুড়ে দেওয়া হয়েছে সেই মন্দির চত্বর। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শ্বেতপাথরের মূর্তিও। এখানে রাম-সীতার মন্দির ছাড়াও আছে দশাবতার, সাবিত্রী-সত্যবান আর মহাবীরের আলাদা আলদা মন্দির। হনুমানজী অর্থাৎ রামরাজাতলার মহাবীর মূর্তিতেও পুরোদস্তুর বাঙালি ছাপ ঠিক রামরাজার মতোই..



