Friday, 3 April, 2026
3 April
HomeকলকাতাPresident Rule: রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথে বাংলা? সংকটের মুখে বঙ্গ প্রশাসন; বাংলার...

President Rule: রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথে বাংলা? সংকটের মুখে বঙ্গ প্রশাসন; বাংলার মানুষ কি পাবে মুক্তির স্বাদ!

রাজ্য সরকার ও প্রশাসন এখন আক্ষরিক অর্থেই কাঠগড়ায়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

মালদহের কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত সাতজন বিচারককে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘেরাও, নিগ্রহ এবং তাঁদের গাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট যে কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশন যেভাবে জরুরি বৈঠক ডেকেছে, তাতে রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এখন একটাই গুঞ্জন— পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে নির্বাচন কমিশন কি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশের পথে হাঁটছে?

বিচারকের ভাইরাল ফোনকল

বুধবার রাতে মালদহের মোথাবাড়ি এলাকায় এসআইআর ডিউটি শেষে ফেরার পথে গ্রামবাসীদের হাতে আটকা পড়েন সাত বিচারক, যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যত বন্দি অবস্থায় থাকেন তাঁরা। ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে এক মহিলা বিচারকের আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর রাজ্যবাসীকে শিউরে দিয়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা ইট-বাঁশ নিয়ে আসছে… আমার কিছু হয়ে গেলে হাইকোর্ট যেন আমার সন্তানকে দেখে।’

উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও তাঁদের গাড়িতে পাথর ও বাঁশ দিয়ে হামলা চালানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাত ১১টা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের কোনও শীর্ষ আধিকারিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি বিচারকদের সঙ্গে থাকা একটি পাঁচ বছরের শিশুকেও জল বা খাবার দেওয়া  হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালতের কয়েকটি মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

রাজনৈতিক মেরুকরণ‘: প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মতো এতটা রাজনৈতিকভাবে মেরুকরণ হয়ে যাওয়া রাজ্য আগে কখনও দেখিনি।’ এখানে বিচারব্যবস্থার কাজকেও রাজনৈতিক চশমায় দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনের শোকজ: সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপি-কে শো-কজ করেছে। আগামী ৬ এপ্রিল তাঁদের সশরীরে (অনলাইন) আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত: আদালত জানিয়েছে, বিচারকরা হলেন আদালতের ‘প্রসারিত হাত’। তাঁদের ওপর হামলা মানে সরাসরি বিচারব্যবস্থার ওপর আক্রমণ।

আরও পড়ুনঃ অ্যাকশন’ মুডে NIA; কলকাতায় NIA IG সোনিয়া সিং, সঙ্গে ২৪ জন অফিসারের টিম

নির্বাচন কমিশনের জরুরি বৈঠকে কি বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত?

কালিয়াচকের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন আজ দিল্লিতে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠকে কমিশনের ফুল বেঞ্চের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ উপস্থিত রয়েছেন।

বৈঠকে মূলত বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সরাসরি তদারকি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যেভাবে একের পর এক হামলায় প্রশাসনিক নিস্ক্রিয়তা সামনে আসছে, তাতে কমিশন রাজ্যের উপর থেকে আংশিক বা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা ভাবছে।

রাষ্ট্রপতি শাসন কি আসন্ন?

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন চলাকালীন বা নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালে কোনও রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির কাছে বিশেষ রিপোর্ট পেশ করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে কয়েকটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

. প্রশাসনিক স্থবিরতা: সুপ্রিম কোর্ট নিজেই স্বীকার করেছে যে, রাতে সংকট চলাকালীন প্রশাসনের তৎপরতা ছিল অত্যন্ত শ্লথ।

. নিরাপত্তার অভাব: জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারকরাই যখন রাজ্যে নিরাপদ নন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।

. বিবাদী অবস্থান: আদালতে অ্যাডভোকেট জেনারেলের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে, রাজ্যের প্রশাসনিক ভাষা এখন রাজনৈতিক ভাষার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাম নেতা ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, ‘রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিচারকরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এটি শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতার চূড়ান্ত রূপ।’

মালদহের ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ কেন্দ্রীয়নির্বাচন কমিশনের 

ভার্চুয়াল বৈঠক ক্ষোভ প্রকাশ করেন জ্ঞানেশ কুমার 

এডিজি আইনশৃঙ্খলা কেন যায়নি ? আইজি কেন কখন গিয়েছেন ? কেন রাত ১০ টার সময় ইসিকে জানানো হলো -একাধিক প্রশ্নের মুখে

ইসির ক্ষোভের মুখে কলকাতা পুলিশের কমিশনার থেকে বিধাননগরের সিপিও। কলকাতার পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণে করতে পারছেন না প্রশ্ন কলকাতার সিপিকে? শমীক ভট্টাচার্য গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্নের মুখে বিধাননগরের সিপি।

আরও পড়ুনঃ কালিয়াচকের ঘটনায় ‘সুপ্রিম’ নিন্দা! উসকানি দিচ্ছিল মোফাক্কেরুলই; উদ্ধারে দেরি হয়েছিল, মানলেন ADG North Bengal

রাজনৈতিক চাপে যে ‘ক্রিমিন‍্যালদের’ সিকিউরিটি দিয়ে রাখা হয়েছে, তা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এধরনের পরিস্থিতি কোনও ভাবে বরদাস্ত নয়। কাজে গাফিলতি থাকলে অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআরের হুঁশিয়ারি

বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ বা আদালত অবমাননার হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের জরুরি তলব— সব মিলিয়ে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন এখন আক্ষরিক অর্থেই কাঠগড়ায়। যদিও সরাসরি ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ শব্দবন্ধটি এখনও উচ্চারণ করেনি, তবে প্রশাসনিক নিস্ক্রিয়তা এবং বিচারব্যবস্থার ওপর এই আক্রমণ যদি অব্যাহত থাকে, তবে কমিশন কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। মালদহের এই ক্ষত এখন দিল্লির দরবারে বাংলার প্রশাসনের জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা।

সুপ্রিম কোর্ট অবিলম্বে বিচারকদের থাকার জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যে কোনও স্থানে পাঁচ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। ৬ এপ্রিলের শুনানিতে রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জবাবের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক গতিপথ।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন