মালদায় কি বাংলাদেশ মডেল? পুলিস সূত্রে খবর, ১ এপ্রিলের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। বেলডাঙার ঘটনাও পূর্ব পরিকল্পিত। মালদা ও বেলডাঙার সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে পুলিস ও গোয়েন্দা সূত্রে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগড়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এটি একটি সুপরিকল্পিত কনস্পিরেসি বা চক্রান্ত।
আরও পড়ুনঃ বিচারক বন্দী, রাষ্ট্র নীরব! সংবিধান ভাঙছে, না ৩৫৬-এর খেলা শুরু?
পুলিসি সূত্রে খবর, ইটাহারের বাসিন্দা মোফাক্কেরুলকে ওই রাতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কালিয়াচকে ‘ইমপ্ল্যান্ট’ করা হয়েছিল। যে জাতীয় সড়কে একটি অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকার জায়গা ছিল না, সেখানে মোফাক্কেরুল কীভাবে অনায়াসে ইটাহার থেকে এসে পৌঁছালেন এবং প্ররোচনামূলক ভাষণ দিয়ে আবার নিরাপদে ফিরে গেলেন, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর গাড়ির মাথায় উঠে ভাষণ দেওয়া কিংবা জমায়েতে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে ওঠা—এই দৃশ্যগুলো সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণ-আন্দোলনের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর আসার বা যাওয়ার কোনও ভিডিয়ো না থাকলেও, তাঁকে ‘বিপন্ন মানুষের মসীহা’ হিসেবে তুলে ধরার হাজার হাজার ভিডিয়ো মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা একটি সুসংগঠিত আইটি সেলের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। মালদা জেলার পুলিস সূত্র অনুযায়ী, আগুনে ঘৃতাহুতি করার কাজে পরিকল্পিত ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল মোফাক্কেরুলকে।
আরও পড়ুনঃ পর্দা ফাঁস বিজেপির; মুখ্যমন্ত্রীর Z+ নিরাপত্তা বলয়ে মোফাক্কেরুল
তদন্তে উঠে আসছে বেলডাঙার ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে মৌলানা শওকত আলি আলবানির নাম, যে ঝাড়খণ্ডে বসে ঘটনার স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ। মালদার ক্ষেত্রেও এমনই কোনও ‘মাথা’র খোঁজ চালাচ্ছে পুলিস। মোফাক্কেরুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাম্প্রতিক কিছু লেনদেন গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। পুলিস ও এনআইএ (NIA)-এর সন্দেহ, এই অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে বড় ধরনের ‘স্পনসরড মোটিভেশন’ বা আর্থিক মদত থাকতে পারে। প্রবল সন্দেহ তদন্তকারীদের।



