ভারত বর্তমানে তার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহের (Heatwave) কবলে পড়তে চলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের একটি বড় অংশ আগামী দুই সপ্তাহ বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য ভারতের বেশ কিছু শহরে পারদ ৪৫-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক সংকেত। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ‘হিট ডোম’ (Heat Dome) বা বায়ুমণ্ডলের একটি নির্দিষ্ট স্তরে গরম বাতাস আটকে থাকাই এই চরম পরিস্থিতির মূল কারণ।
আরও পড়ুনঃ ভোট দিতে কাজ খোয়াতেও রাজি পরিযায়ী শ্রমিকরা! বাড়ি ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি পরিযায়ী শ্রমিকদের
গত কয়েক বছরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এল নিনোর (El Niño) প্রভাব এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে ভারতের আবহাওয়া চরিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এ বছর বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর থেকে আসা আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাস বা ‘লু’ (Loo)-এর দাপট বৃদ্ধি পাওয়ায় এই তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের আকোলা থেকে শুরু করে রাজস্থানের ফালোদি বা দিল্লির মতো এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৪ থেকে ৪৭ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং আগামী কয়েক দিনে তা ৫০ ডিগ্রির গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলতে পারে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মতো উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ‘রিয়েল ফিল’ বা অনুভূত তাপমাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও কয়েক ডিগ্রি বেশি হতে পারে।
কতদিন চলবে এই পরিস্থিতি?
আইএমডি (IMD)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি অন্তত আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত এই উত্তাপ কমার কোনো বিশেষ লক্ষণ নেই। উত্তর ভারতে কোনো শক্তিশালী পশ্চিমা ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) না আসা পর্যন্ত তাপমাত্রার গ্রাফ নিচের দিকে নামার সম্ভাবনা কম। এর ফলে কৃষি কাজ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দুরন্ত পুলিশি অ্যাকশনে মালদা থেকে ধৃত ২ বাংলাদেশি
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ৪-৫ লিটার জল পান করা জরুরি। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সরাসরি রোদে না যাওয়াই ভালো। যদি বাইরে বেরোতেই হয়, তবে ছাতা, টুপি এবং সুতির হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া ওআরএস (ORS), ডাবের জল বা বাড়িতে তৈরি আম পোড়ার শরবত শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। অতিরিক্ত চা বা কফি এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এগুলো শরীরকে আরও ডিহাইড্রেটেড করে দেয়। মনে রাখবে, এই গরম কেবল অস্বস্তি নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ; তাই সতর্কতা অবলম্বনই সুস্থ থাকার একমাত্র উপা



