দলে কোণঠাসা। বিদ্রোহী একের পর বিধায়ক থেকে সাংসদ। গৃহযুদ্ধ তৃণমূলের অন্দরে। এই আবহ তলবের পর তলব। অভিষেকের চারপাশে যেন ক্রমেই বাজছে মামলার ডিজে। বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলায় ১৪ তারিখই ফের ভবানীভবনে ডেকে পাঠিয়েছে সিআইডি। বেলা ১২টার সময় তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগে এই মামলায় বৃহস্পতিবার অভিষেককে সাড়ে ৫ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। সেখানে আবার একাধিক প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন বলে জানা যায়। মেজাজও হারান বলে সূত্রের খবর, কথা বলে ফেলেন রীতিমতো উচ্চগ্রামে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা যে খুব একটা সন্তুষ্ট নন তাও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত তথ্য বাইরে কীভাবে এল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তবে তাঁকে তলব থামছে না।
বাজছে মামলার ডিজে
অন্যদিকে ডিজে বাজানো মন্তব্যে ইতিমধ্যে বিধাননগর সাইবার থানা থেকে অভিষেকের কেস নিয়েছে সিআইডি। কেস ডায়েরিও আগেই হস্তান্তর হয়ে গিয়েছে। তারপরই অভিষেককে তলব করে গিয়েছে নোটিস। শুক্রবার বিকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস দিয়ে এসেছে সিআইডি-র টিম। মঙ্গলবারই তাঁকে এই কেসে ডাকা হয়েছে ভবানীভবনে।
ডাকছে সিআইডি
৫ মে বাগুইআটির থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাজীব সরকার নামে এক জনৈক ব্যক্তি। একাধিক জায়গায় উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়। অভিষেকের বক্তব্যের লিঙ্ক তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হয় FIR. এর মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার তিনটি ধারা রয়েছে। বিএনএস ১৯২, বিএনএস ১৯৬(জামিন অযোগ্য), বিএনএস ৩৫১/২(জামিন অযোগ্য) ধারা রয়েছে। এছাড়াও রিপ্রেজেটিয়ন অফ পাবলিক অ্যাক্টের দু’টি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
মে মাসের শেষে উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ভবানীপুর থানাতেও অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। সাংসদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন অর্ণবকান্তি দাস নামে এক জনৈক ব্যক্তি। এরইমধ্যে আবার আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এর আগে কয়লা পাচার মামলায় (লালা সিন্ডিকেট) নিজাম প্যালেসে ডেকে সুমিত রায়ের বয়ান রেকর্ড করেছিল সিবিআই। এবার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে তাঁর।
ডাকছে ইডি
এখানেই শেষ নয়, সোমবার আবার অভিষেককে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট। প্রাথমিক দুর্নীতি মামলাতেই তাঁকে ডাকা হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাক টু ব্যাক তলবে বিপদ যে আরও বাড়ছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
চাপ বাড়াচ্ছে পুরসভাও
অন্যদিকে অভিষেকের বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙতে আবার ইতিমধ্যেই নোটিসও দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। তা নিয়েও চাপানউতোরের অন্ত নেই। অভিষেকের মোট ২১টি সম্পত্তির তথ্য তলাশও হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারে অভিযোগ
ডায়মন্ড হারবারেও অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। অভিষেক, জাহাঙ্গির খান-সহ ৪০ জনের বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। তাঁর অভিযোগ, সাড়ে ৭ বছর আগে অভিষেকের নির্দেশে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। এবার সুবিচারের আশায় দিন গুনছেন তিনি।
আড়াইশো কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিষ্ণুপুর থানাতেও। আমফানের ত্রাণ তহবিল বণ্টনে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ করেছেন অভিজিৎ দাস। ১৩ জুন বিষ্ণুপুর থানার IC ও ডায়মন্ড হারবার SP-র কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ সেই মেজাজ, সেই ঔদ্ধত্য; যত রাগ ‘রিপাবলিক বাংলার’ ওপর! তল্লাশির পরে অভিষেক
একনজরে অভিষেককে ঘিরে কারা কারা ডাকছে
- ইডি (নিয়োগ দুর্নীতি)
- সিআইডি (ডিজে মন্তব্য, সই জাল)
- ভাবানীপুরে অভিযোগ দায়ের
- ডায়মন্ড হারবারে অভিযোগ দায়ের
- বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের
দলেও কোণঠাসা
শুধু প্রশাসনিক বা আইনি ক্ষেত্রেই যে অভিষেক চাপে রয়েছেন এমনটা নয়। ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে গোটা তৃণমূলই। বিধানসভা তো বটেই বিদ্রোহ সংসদেও। একের পর এক বিধায়কের পর তাঁর দলেরই সাংসদরা সুর চড়াচ্ছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। মমতার সঙ্গেই নিজের দলেই কোণঠাসা অভিষেক। অভিষেক যদিও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বলছেন, “দল ভাঙানোর রাজনীতি করে কোনও লাভ নেই। সিআইডি দিয়ে, সিবিআই দিয়ে, দল ভেঙে, পার্টি অফিস দখল করে তৃণমূলকে দমানো যাবে না।”


