পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অভিযোগ উঠেছে যে কামারহাটি পুরসভা-সহ বিভিন্ন পুরসভায় অযোগ্য প্রার্থীদের বিভিন্ন পদে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন মদন। সেজন্য ঘুষ হিসেবে ‘মিডলম্যান’-র মাধ্যমে সোনা ও নগদ টাকাও নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইডির আধিকারিকদের দাবি, এরকম কমপক্ষে ১২৫টি বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের ‘লিঙ্ক’ পাওয় গিয়েছে। সেই রেশ ধরেই মদনের সাতটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যে তালিকায় দক্ষিণেশ্বরের ফ্ল্যাট, জোকার পুরনো ফ্ল্যাট, ভবানীপুরের ফ্ল্যাটও আছে।
আরও পড়ুনঃ শনিবার সকাল থেকে সক্রিয় ইডি; মদনের বাড়িতে সকাল থেকে ভবানীপুর ও কামারহাটিতে তল্লাশি
‘সেতু’ ছিলেন মিডলম্যানরা, নিতেন ঘুষ, মনে করছে ইডি
ইডির আশঙ্কা, পুর নিয়োগ দুর্নীতির আকার মারাত্মক ছিল। ঘুষ নিয়ে প্রচুর অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হত। সেই রেশ ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থা প্রাথমিকভাবে যে তদন্ত চালিয়েছে, তাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে অযোগ্যদের চাকরি দিতে ‘মিডলম্যান’-দের মাধ্যমে সোনাদানা দেওয়া-নেওয়া হত। ওই ‘মিডলম্যান’-রাই পুরো ঘুষের বিষয়টি দেখতেন। চাকরিপ্রার্থী ও আধিকারিকদের মধ্যে ‘সেতু’ হিসেবে কাজ করছেন।
আরও পড়ুনঃ সেই মেজাজ, সেই ঔদ্ধত্য; যত রাগ ‘রিপাবলিক বাংলার’ ওপর! তল্লাশির পরে অভিষেক
কত ভয়াবহ ছিল পুর নিয়োগ দুর্নীতি? তথ্যপ্রমাণ খুঁজছে ED
সেই পরিস্থিতিতে মদনের ফ্ল্যাট-সহ বিভিন্ন জায়গায় যে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, সেখান থেকে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করার চেষ্টা করছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর, ওই তল্লাশি অভিযানের সময় যে তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক লেনদেনের নথি বা ডিজিটাল ডেটা পাওয়া যাবে, তা থেকে ‘টাকার চেন’ চিহ্নিত করার কাজটা সহজ হবে। সেইসঙ্গে ওই দুর্নীতিতে কারা কারা যুক্ত আছেন, তা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও আজকের তল্লাশি অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন ইডি আধিকারিকরা।


