সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের রাস্ক সীমান্ত এলাকায় ২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার রাতে একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সদস্যরা পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ করা জইশ আল-আদল (জইশ আল-জুলম বা ‘আর্মি অফ ইনজাস্টিস’) নামক জঙ্গি গোষ্ঠীর একটি সশস্ত্র দলকে নিকেশ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীরা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল।
আরও পড়ুনঃ নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙল বাংলা, নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ
অভিযানে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।জইশ আল-আদল একটি সুন্নি জঙ্গি সংগঠন, যা ইরানের বালুচ অঞ্চলে সক্রিয়। এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে এবং ইরান সরকার এদের পাকিস্তান-সমর্থিত বলে অভিযোগ করে। পাকিস্তান অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রাস্ক এলাকা ইরান-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং এটি ঐতিহাসিকভাবে অস্থির। অতীতেও এখানে অনুরূপ অনুপ্রবেশ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গিরা সীমান্ত পেরিয়ে ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। আইআরজিসি-র দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। অভিযানে জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে আধুনিক রাইফেল, গ্রেনেড ও অন্যান্য যুদ্ধসরঞ্জাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এই সফল অভিযান ইরানের পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা ও প্রস্তুতির প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেউ কেউ বলছেন, এই অনুপ্রবেশের পেছনে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও প্রক্সি যুদ্ধের ছায়া রয়েছে। ইরান-মার্কিন উত্তেজনার মাঝে এ ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিছু সূত্রে ‘আমেরিকা প্ল্যান-বি সক্রিয় করেছে’ বলে দাবি উঠলেও এখনও পর্যন্ত কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার বাইরে এই অংশের তথ্য এখনও অপ্রমাণিত।সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশ ইরানের সবচেয়ে অস্থির অঞ্চলগুলোর একটি।
আরও পড়ুনঃ সত্যি হল কমিশনের আশঙ্কা; বিকেল ৪টে বাজতেই …
এখানে জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। জইশ আল-আদলের মতো গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় বালুচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে সদস্য সংগ্রহ করে এবং সীমান্তের ওপার থেকে সহায়তা পায় বলে অভিযোগ। ইরান সরকার এই অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং নিয়মিত অভিযান চালায়। পাকিস্তানের সঙ্গেও যৌথ অভিযানের কথা শোনা যায়, যদিও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জটিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় দরকার। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এই সফল অভিযানের পর সতর্কতা আরও বাড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি চলছে।



