ভোটের আগে থানার সামনে ‘গুন্ডাগিরি’ প্রাক্তন সাংসদ তথা নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহের। তা ঘিরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ব্যারাকপুরের জগদ্দল থানা চত্বর। পুলিশ দু’পক্ষকে হটাতে লাঠিচার্জ করেছে।
রবিবার রাত ১০টা নাগাদ জগদ্দল থানার সামনে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় ভাটপাড়ার প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করার থানায় গিয়েছিলেন। সেই সময় আচমকা থানায় পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর মনোজ পান্ডে, সৌরভ সিংহ সেখানে পৌঁছোন। তাঁদের সঙ্গে বাকি তৃণমূলের কর্মীরাও ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গে যোগীর দোর্দণ্ডপ্রতাপ ‘সিংঘম’! সেনাপতি গড়ে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট পাঠাল কমিশন
এই খবর পেয়েই জগদ্দল থানায় পৌঁছে যান ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহ। অভিযোগ, তিনি গাড়ি থেকে নেমেই থানার গেটের সামনে রীতিমতো গুন্ডাগিরি শুরু করে দেন। এমনকী, তিনি তৃনমূল নেতাদের বেধড়ক মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। ব্যপক ধাক্কাধাক্কি থেকে চড়-ঘুষি চলতে থাকে। বিজেপি নেতা নিজেই তৃণমূল কর্মীদের মারতে উদ্যত হন। তৃণমূলের কর্মীরাও বিজেপি নেতা অর্জুনের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অর্জুনের সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। এমনকী, থানার ভেতরেও তৃণমূল এবং বিজেপির সমর্থকদের মারপিট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঠিক তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই থানার বাইরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দু’পক্ষই একে অপরের দিকে মারতে উদ্যত হয়ে। একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ। ডাকা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তাঁরা এসে মৃদু লাঠিচার্জ করে। তার পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুনঃ ১০০ মিটার চৌহদ্দিতে আরও কড়া নজরদারি দ্বিতীয় দফায়; বুথমুখী রাস্তায় থাকবে সিসি ক্যামেরা!
ঘটনায় তৃণমূলের নেতা বলেন, “আমরা থানায় গিয়েছিলাম কিন্তু মারামারি বা গন্ডগোল পাকানোর উদ্দেশ্যে নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই প্রতিবাদ করছিলাম। অর্জুন সিংহ এসেই মারধর শুরু করে। আমি জখম হয়েছি। আমার ঘারে লেগেছে। প্রশাসনের কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।”
ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার বলেন, “থানা থেকে সিপি-ডিসি সবাইকে বের করিয়ে দিয়েছে। তার পরে তৃণমূলের গুন্ডাদের ডেকেছে। আমার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী জনতাকে উস্কানি দিয়েছিলেন। তাঁর মন্তব্যের বিরুদ্ধেই থানায় জানাতে এসেছিলাম।”


