বঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে এখন এক অদ্ভুত উত্তেজনা।তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে ছড়িয়ে পড়েছে চাপা উদ্বেগ । দলের কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, যদি বিরোধী স্রোত অর্থাৎ অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি মাত্র ২-৩ শতাংশ ভোট সুইংয়ের আকার নেয় এবং ভোটার লিস্ট থেকে বড়সড় ‘ডিলিশন’ বা নাম কাটার প্রভাব যোগ হয়, তাহলে বিজেপির জয়ের একটা স্পষ্ট সুবিধা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ভোটবঙ্গে সেন্সরশিপ! শ্রীজাতর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সত্যটা খোলাখুলি স্বীকার করতে পারছে না। তাই তারা এখন জোর করে ভোটারদের কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।১৫ বছরের শাসনকালের পর তৃণমূলের সামনে স্বাভাবিকভাবেই অসন্তোষের ঢেউ। গ্রামে-শহরে অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। কর্ম সংস্থান নেই, দুর্নীতির অভিযোগ, স্থানীয় স্তরে নেতাদের দৌরাত্ম্য এসব ইস্যু ধীরে ধীরে ভোটারদের মন থেকে তৃণমূলের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এই অসন্তোষ যদি ২-৩ শতাংশ ভোট সরিয়ে নেয়, তাহলে অনেক আসনে খেলা ঘুরে যেতে পারে। তার ওপর যোগ হয়েছে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ নাম কাটা। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রয়েছে। এর পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছে ২৭ লক্ষ নাম। এর মধ্যে অনেকেই তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাঙ্কের অংশ বলে দাবি করেছেন তারা।
আরও পড়ুনঃ নিজের কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না প্রার্থীরা, কমিশনের নতুন গাইডলাইন
তৃণমূল ৭৪ জন বসে থাকা বিধায়ককে ড্রপ করে নতুন মুখ এনেছে। যুব নেতৃত্বকে সামনে আনা হয়েছে, যাতে এই অসন্তোষের ধাক্কা কিছুটা সামলানো যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ‘বাংলা জিতবে’ স্লোগান দিয়ে আইডেন্টিটি পলিটিক্সে জোর দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, বিজেপি বাঙালির অস্তিত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, এসআইআর হলো সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।
দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ভোটার লিস্ট থেকে অনেক সাধারণ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে মহিলা ও সংখ্যালঘু ভোটারদের যারা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কের অংশ ছিল। অন্যদিকে ২০২১ র ফলাফল এবং ২০২৪ র লোকসভা নির্বাচনের পরে বাংলায় বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এবং তৃণমূলের প্রতি এই অসন্তোষকে হাতিয়ার করেই বঙ্গে খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে বিজেপি এমনটাই মনে করছেন তারা।



