২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য। পুরনো এক মামলার ভিত্তিতে প্রখ্যাত কবি শ্রীজাতকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতের সেই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করতে পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।
আরও পড়ুনঃ ফের একাধিক কড়া সিদ্ধান্ত কমিশনের; অন্য বিধানসভার ভোটার আত্মীয় আবাসনে থাকলে সাবধান!
কেন এই আকস্মিক পদক্ষেপ?
কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভোটের এই চূড়ান্ত উত্তেজনার আবহে কবির কোনও বক্তব্য বা প্ররোচনা থেকে নতুন করে অশান্তি ছড়াতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুরনো মামলার ভিত্তিতে এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তুমুল বাকযুদ্ধ
কবির বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, বিজেপি সুপরিকল্পিতভাবে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানতে চাইছে। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বিজেপির প্ররোচনাতে পা দিয়েই নির্বাচন কমিশন শ্রীজাতর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই গ্রেফতারি নির্দেশ দিয়েছে খোদ রাজ্যের আদালত। এর মধ্যে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে নিশ্চিত নৈতিক হারের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সাধারণ মানুষকে ভুল পথে চালনা করতেই এইসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।
আরও পড়ুনঃ একাধিক পদক্ষেপ কমিশনের; জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী
ক্ষুব্ধ সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহল
কবি শ্রীজাতর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে সাহিত্যিক মহলে। প্রবীণ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং লেখক বিনোদ ঘোষালের মতো বিশিষ্টজনেরা এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন।
তাঁদের প্রশ্ন, একজন কবি বা সাহিত্যিকের সঙ্গে কীভাবে এমন আচরণ করা হতে পারে? ভোটের আবহে এই ঘটনা বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং শিল্পী-সাহিত্যিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



