ভোট প্রক্রিয়া সব দিক থেকে সুষ্ঠু করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন ৷ রাজ্যে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনওরকম অবনতি না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন । তাই আবারও একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে । এবার এক ধাপ এগিয়ে কমিশনের বিধান যে, আবাসনে কারও আত্মীয় স্বজন থাকতে পারবেন না যদি সেই ব্যক্তি ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার না হন ।
আরও পড়ুনঃ আপনার এলাকায় চলছে নজরদারি; রাস্তায় কমিশনের ডিজিটাল চোখ!
মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বহুতল আবাসনে শুধু সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটাররাই থাকতে পারবেন । থাকতে পারবেন না আত্মীয় স্বজনরাও । তবে কারও আত্মীয় যদি ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হন তাহলে তিনি থাকতে পারবেন । এবার একাধিক বহুতল আবাসনেই ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে । সেই কারণেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ । কমিশনের মতে, বহিরাগতদের উপস্থিতি ভোট প্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে পারে তাই কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা ।
ইতিমধ্যেই কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে । কারণ কমিশনের এই কঠোর অবস্থান কতটা বাস্তবসম্মত সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে । অন্যদিকে, এদিন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যপাল যদি নির্বাচনকে মাথায় রেখে কোনও হেল্পলাইন খুলতে চান তাহলে তিনি সেটা পারেন ৷ কমিশনের কাজ সহজ হবে এতে । যদি একাধিক ফোনের চাপে কমিশনের ফোনে লাইন না পাওয়া যায় সেই ক্ষেত্রে রাজভবনের নম্বর খোলা থাকবে বলেও জানানো হয়েছে । এছাড়াও ওড়িশা সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছে । নির্বাচনী বুথের ১00 মিটারের মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ বা নো এন্ট্রি জারি করা হয়েছে ।
আরও পড়ুনঃ একাধিক পদক্ষেপ কমিশনের; জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী
অন্যদিকে, নির্বাচনের লক্ষ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন ৷ জেলাশাসকের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরজুড়ে ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে । ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে । জেলার ভোটার নন এমন রাজনৈতিক কর্মী বা প্রচারকদের ভোটের আগে জেলা ছাড়তে হবে ৷ ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফের সেই জেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না তাঁরা । ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও পাবলিক মিটিং, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না । এমনকি সোশাল মিডিয়া, এসএমএস বা থিয়েটারের মাধ্যমেও নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না ।



