গুজরাটে বিজেপিকে আগামী ৪০-৫০ বছর কেউ হারাতে পারবে না। (Yusuf Pathan)যে দল শক্তিশালী, জনগণের জন্য কাজ করে এবং জনগণের ভালোবাসা পায়, সেই দলই ক্ষমতায় থাকে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ইউসুফ পাঠানের এই স্বীকারোক্তি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে তৃণমূলের দুই নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও বায়রন বিশ্বাসের মন্তব্যের পর এবার ইউসুফ পাঠানও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর উন্নয়নের স্কেল স্বীকার করে নিয়েছেন।
ফলে শাসনব্যবস্থা, কাজের ডেলিভারি এবং জনগণের আস্থাই যে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ফলাফল নির্ধারণ করে এই বার্তা আর উপেক্ষা করা যাচ্ছে না।সম্প্রতি গুজরাটের বরোদায় স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে ইউসুফ পাঠান মিডিয়ার সামনে বলেন, গুজরাটের মানুষ বিজেপিকে পছন্দ করে এবং উন্নয়নের জন্য ভোট দেয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কেউ বিজেপিকে এখানে হারাতে পারবে না আগামী ৪০-৫০ বছর।
আরও পড়ুনঃ ভাঙড়ে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় NIA-কে তদন্তভার দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, নাশকতার ছক দেখছে দিল্লি
ফ্যাক্টস আর ফ্যাক্টস।” তাঁর এই মন্তব্যে তৃণমূলের অনেক কর্মী-সমর্থক অস্বস্তিতে পড়েছেন। কারণ তিনি তৃণমূলের হয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত। অথচ গুজরাটে দাঁড়িয়ে তিনি বিজেপির জনসমর্থন ও উন্নয়নের প্রশংসা করলেন।এর আগে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং সাগরদিঘির প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের মন্তব্যও সাড়া ফেলেছিল।
অনুব্রত মণ্ডল প্রথম দফার ভোটের পর স্বীকার করেন যে তৃণমূলের অবস্থা ভালো নয়। বায়রন বিশ্বাস তো আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেন, তিনি নিজেই সম্ভবত হারছেন এবং অনেক তৃণমূল প্রার্থী, এমনকি বসে থাকা বিধায়করাও হারতে পারেন। এই স্বীকারোক্তিগুলো বিজেপির পক্ষে শক্তিশালী প্রচারের অস্ত্র হয়ে উঠেছে।ইউসুফ পাঠানের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তিনি একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং তৃণমূলের জাতীয় স্তরের নেতা।
তিনি বলেছেন, গুজরাটের সতর্ক নাগরিকরা সবসময় উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেন। এই কথায় স্পষ্ট যে, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির শাসনে গুজরাটে যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, রাস্তা, পানীয় জল এবং সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো চলছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ফলে জনগণের আস্থা অটুট রয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই ঘটনাগুলো একটি বৃহত্তর বার্তা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় চূর্ণ “তৃণমূলের দম্ভ”, বঙ্গ জয়ের হুঙ্কার মোদীর
শুধুমাত্র জনসংযোগ বা আবেগ দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। যে দল সত্যিকারের শাসন করে, প্রতিশ্রুতি পূরণ করে এবং জনগণের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করে, সেই দলই টিকে থাকে। গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশসহ বিজেপি শাসিত অনেক রাজ্যে এই মডেল সফল হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব রাজ্যে হিংসা, সিন্ডিকেট রাজ, বেকারত্ব এবং উন্নয়নের অভাব দেখা যায়, সেখানে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নেতারা যখন নিজেরাই দলের দুর্বলতা স্বীকার করছেন এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের প্রশংসা করছেন, তখন সাধারণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন জাগছে। তারা ভাবছেন, বাংলায় কেন এমন উন্নয়নের ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে না? কেন শিল্পপতিরা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে ভয় পান? কেন বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানের জন্য অন্য রাজ্যে ছুটছেন?


