অবিশ্বাস্য ঘটনা হলেও এটাই সত্যি। প্রায় ২৪ হাজার বছর পর উত্তরপূর্ব সাইবেরিয়ায় এক আণবিক আকারের জীবকে উদ্ধার করে পুনরুজ্জীবিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। শীতঘুম থেকে জেগে ওঠার পরই এই জীবটি অযৌনভাবে বংশ বিস্তার করতে শুরু করে দিয়েছে। আর এই জীবটির নাম ‘ডেলয়েড রটিফার। ‘
আরও পড়ুনঃ এবার কলকাতার সরু গলিতেও নজর কমিশনের
রাশিয়ার সুদূর উত্তরে ইয়াকুতিয়া নামে একটি জায়গায় গবেষণা করছিলেন রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। সেখানকার আালাজেয়া নদীর মাটি থেকে খোঁজ পাওয়া গেছে ডেলয়েড রটিফার নামে এক অদ্ভুত প্রাণীর। কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে এমন এক গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। এই জীব অসম্ভব ঠাণ্ডার মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে। এই অনুজীবটির বয়স ২৩, ৯৬০ থেকে ২৪, ৪৮৫ বছরের মধ্যে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চিরতরে বরফ হয়ে যাওয়া স্তর বা পার্মাফ্রস্ট নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই জীবের খোঁজ পান বিজ্ঞানীরা। দেহের আকার যতটা ক্ষুদ্র, সেই তুলনায় তার দৈহিক বৈশিষ্ট্য অনেক বেশি জটিল। ২০২১ সালে কারেন্ট বায়োলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন, এদের মুখে চাকার মতো গোল আকৃতির চুলের অস্তিত্বের জন্য ‘চাকা প্রাণী’ও বলে। এরা বহুকোষী আণুবীক্ষণিক প্রাণী। দেহের আকার কয়েক মাইক্রোমিটার হলেও দেহে মস্তিষ্ক, মুখমণ্ডল, পাকস্থলী, মাংসপেশি এমনকি জননতন্ত্রও উপস্থিত। সাধারণত, আর্দ্র পরিবেশে ডেলয়েড রটিফারের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। জলজ পরিবেশ ছাড়াও গাছের ডালে খোঁজ পাওয়া যায় ডেলয়েড রটিফারের।
আরও পড়ুনঃ উত্তর কলকাতায় কার্যত কোণঠাসা তৃণমূল! উত্তর কলকাতায় মোদীর গ্র্যান্ড রোড-শোয়ে মানুষের ঢল
ডেলয়েড রটিফারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা ভয়ঙ্কর পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই প্রাণীটিকে পরীক্ষা করার জন্য রাখা হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল, বরফের মধ্যে ভয়ঙ্কর ঠান্ডায় ডেলয়েড রটিফার টানা দশ বছর বেঁচেছিল। এই প্রাণীর উপর গবেষণা নিয়ে পরবর্তী ধাপেও গিয়েছিলেন রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। ঠিক কতটা প্রতিকূল পরিবেশে এই প্রাণীটি বেঁচে থাকে তা পরখ করে দেখতে চাইছিলেন তারা।কোষের ভেতর কোনও ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজে থেকেই তা সারিয়ে ফেলার ক্ষমতা রয়েছে ডেলয়েড রটিফারের। গবেষকরা জানাচ্ছে, ২৪ হাজার বছরের ব্যবধান পেরিয়ে তাদের ‘নিদ্রা’ভঙ্গ করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সাইবেরিয়ার এই বাসিন্দারা কেবল জেগেই ওঠেনি, বংশবিস্তারও শুরু করে দিয়েছে। অযৌন জনন পদ্ধতিতে নিজেদের ক্লোন উৎপাদন করেছে তারা। প্রসঙ্গত এর আগে গবেষণায় বলা হয়েছিল, মহাকাশেও পাঠানো হয়েছে ডিলয়েড রোটিফার। সেখানকার পরিবেশে এটি টিকে থাকতে পারে কিনা তা নিয়েও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। যাইহোক, এই অণুজীবের অনেক বৈশিষ্ট্য এখনও রহস্যের মধ্যে আবৃত।


