ভোটের দিনের সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বেশ কয়েকটি বুথে ইভিএম মেশিনের বিজেপি বাটনে স্বচ্ছ টেপ মেরে আটকে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটাররা বিজেপিকে ভোট দিতে না পারেন। দেবাংশু পান্ডা বলেছেন, যেখানে অবসার্ভার রয়েছেন খোদ অজয় পাল শর্মা সেখানেই তার নাকের ডগায় এই ধরণের ঘটনা।
তিনি আরও বলেন এমন একজন কড়া অবসার্ভার যিনি দুদিন ধরে এলাকা পরিদর্শন করছেন এখানেও যদি এমন কারচুপি হয়, তাহলে বাংলার গণতন্ত্র কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?”দেবাংশু পান্ডা সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখছিলেন। একটি বুথে পৌঁছে তিনি নিজের চোখে দেখতে পান যে, ইভিএমের বিজেপি প্রতীকের বাটনে স্বচ্ছ টেপ লাগানো রয়েছে।
ভোটাররা যখন বিজেপিতে ভোট দিতে চাইছেন, তখন বাটন টিপতে সমস্যা হচ্ছে। দেবাংশু পান্ডা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত পোলিং অফিসারদের কাছে অভিযোগ জানান এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এটা পরিকল্পিত। তৃণমূলের লোকজন ভোটের আগে থেকেই ইভিএম নিয়ে কারচুপির চেষ্টা করছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব।”
আরও পড়ুনঃ পুলিশের আজ অন্য রূপ দেখছে বাংলা! মমতার ভাই কার্তিককে হুঁশিয়ারি কলকাতা পুলিশের
ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। দুদিন আগেই অবসার্ভার অজয় পাল শর্মা তাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিজেপি অভিযোগ করছে যে, হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল কর্মীরা স্থানীয়ভাবে প্রশাসনের সঙ্গে মিলে এমন অনিয়ম করছে। দেবাংশু পান্ডা আরও বলেছেন, “একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা বলছেন, অন্যদিকে তাঁর নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটছে। এটা কোন গণতন্ত্র?”ঘটনার পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বুথের বাইরে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।
স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নির্বাচন কমিশনের পোলিং অফিসাররা ইভিএম পরীক্ষা করে দেখছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে বিজেপি বলছে, এই ধরনের ঘটনা একটি-দুটি বুথে সীমাবদ্ধ নয়, একাধিক বুথে একই অভিযোগ উঠেছে।ফলতা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই অঞ্চল অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাবের এলাকা হিসেবে পরিচিত।
তাই এখানে এমন অভিযোগ উঠলে তা রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, তৃণমূল যেখানে শক্ত ঘাঁটি মনে করে, সেখানেই বেশি করে অনিয়মের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্ররা বলছেন, বিজেপি হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই ইভিএম নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে। জাহাঙ্গীর খান নিজে বলেছেন, “ভোট সুষ্ঠুভাবে চলছে। বিজেপি শুধু বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে।”


