২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস । কিন্তু আজ শনিবার শীর্ষ আদালতের বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না তাঁরা। ফলে কলকাতা হাইকোর্টের পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল। বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
আরও পড়ুনঃ নির্বাচন বাতিলের ‘মাস্টারপ্ল্যান’! স্ট্রং রুম থেকে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’
এদিন আদালতে তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিবাল। সওয়াল চলাকালীন তিনি প্রথমেই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। এরপরই তিনি কমিশনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিবাল আদালতে বলেন, “গত ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হলেও আমরা তা জানতে পেরেছি ২৯ তারিখে। কমিশন কেন আশঙ্কা করছে যে প্রতিটি বুথে অশান্তি হতে পারে? এমন উদ্বেগের ভিত্তি কী? প্রতিটি গণনা টেবিলে মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে ইতিমধ্যেই একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী রয়েছেন। তাহলে নতুন করে আরও একজন কেন্দ্রীয় কর্মীর প্রয়োজন কেন পড়ছে?”
তৃণমূলের আইনজীবীর মূল আপত্তি ছিল রাজ্য সরকারি কর্মীদের ব্রাত্য রাখা নিয়ে। তিনি দাবি করেন, সার্কুলার বা নির্দেশিকা অনুযায়ী গণনা টেবিলে রাজ্য সরকারি কর্মী থাকা উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে রাজ্য মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। সিবালের মতে, গণনা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কার কথা বলে আসলে পরোক্ষভাবে রাজ্য সরকারের ওপরই অনাস্থা প্রকাশ করছে কমিশন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা না করে বা তথ্য না দিয়ে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
আরও পড়ুনঃ ফলতা রহস্য! সবচেয়ে বেশি অভিযোগ; তবু নীরব কমিশন
তবে শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতি তৃণমূলের এই যুক্তি গ্রহণ করতে রাজি হননি। বিচারপতিরা উল্টে প্রশ্ন করেন, কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে – এমন নিয়ম কোথায় রয়েছে? বিচারপতি পিএস নরসিংহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “গণনা তদারককারী বা গণনা সহকারী হিসেবে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য উভয় স্তরের কর্মীই থাকতে পারেন। যখন নিয়মেই এই বিকল্প রয়েছে, তখন একে বিধি-বিরোধী বলা যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের আলাদা চোখে দেখাটাই এক ধরনের ভ্রান্তি। আসলে তাঁরা সকলেই সরকারি কর্মচারী।”
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কমিশন সূত্রে খবর, গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালত সবুজ সংকেত দেওয়ায় এখন কেন্দ্রীয় কর্মীদের গণনা কেন্দ্রে নিয়োগ করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। ৪ মে গণনার দিন প্রতিটি টেবিলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের কড়া নজরদারিতেই ভাগ্য নির্ধারিত হবে প্রার্থীদের।


