Sunday, 10 May, 2026
10 May
HomeকলকাতাWriters' Building: ১৩ বছরের ‘বনবাস’ কাটিয়ে স্বমহিমায় মহাকরণ

Writers’ Building: ১৩ বছরের ‘বনবাস’ কাটিয়ে স্বমহিমায় মহাকরণ

গত কয়েকদিন ধরে চলা তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে, প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মহাকরণ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

সরকার গঠিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে কেবল ক্ষমতা বদল নয়, নতুন সরকার এক বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের জমানায় হাওড়ার ‘নবান্ন’ থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম চললেও, শুভেন্দু সরকার পুনরায় কলকাতার ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণকেই রাজ্যের প্রধান সচিবালয় হিসেবে বেছে নিয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার পরেই মহাকরণ-সহ মধ্য কলকাতার একাধিক সরকারি ভবনকে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে গেরুয়া রঙের আলোকসজ্জায়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের এই ঐতিহাসিক ভবনটি রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে পরিণত হতে চলেছে। 

তেরো বছরের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে লালবাড়ির অলিগলি। গঙ্গার ওপারে নবান্ন নয়, এখন থেকে বাংলার প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হবে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণ থেকেই। ১৮তম বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বিজেপি নেতৃত্ব আগেই ঘোষণা করেছিল, তারা ক্ষমতায় এলে মহাকরণ থেকেই সরকার চালাবে। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই এখন যুদ্ধের তৎপরতায় চলছে সংস্কারের কাজ।

আরও পড়ুনঃ ‘তোলা বন্ধ, ভাড়াও বন্ধ’, ঝাঁপ বন্ধ জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল জেলা কার্যালয়ের

২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন তৃণমূল সরকার সচিবালয় নবান্নে স্থানান্তরিত করার পর কার্যত ‘ডরম্যান্ট’ বা নিথর হয়ে পড়েছিল ২৪৬ বছরের এই আইকনিক স্থাপত্য। কাঠের সিঁড়ি, লোহার খাঁচার লিফট আর দীর্ঘ করিডোরগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে ফের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের এক করণিক জানালেন, “২০১৩ সালে রাইটার্স হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে চলা তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে, প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মহাকরণ।”

১৭৮০ সালে থমাস লায়ন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ‘রাইটার’ বা করণিকদের জন্য এই ভবনটি তৈরি করেছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে মহাকরণই ছিল বাংলার ক্ষমতার মূল উৎস। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতে, “সচিবালয় হাওড়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়াটা অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। বিজেপি পুনরায় রাইটার্সে ক্ষমতার অলিন্দ ফিরিয়ে এনে বাংলার হারানো গরিমা পুনরুদ্ধারের বার্তা দিতে চাইছে।”

আরও পড়ুনঃ ‘সাবধানে থাকুন, সব বন্ধ করে দিন, ভদ্র হন’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর

মহাকরণের দ্বিতীয় তলায়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর চেম্বার হওয়ার কথা, সেখানে এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান ও কাঠ মিস্ত্রিরা। পূর্ত দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, “নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরটি তৈরি করা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শুক্রবারের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষটি ব্যবহারের যোগ্য করে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।” তবে মূল ভবন পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা থেকেও কাজ চালাতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

এক নজরে মহাকরণের ইতিহাস:

  • নির্মাণ: ১৭৭৭-১৭৮০ (মূল ব্লক)।
  • পর্যায়: ১৮৭৯-১৯০৬-এর মধ্যে পাঁচটি নতুন ব্লক যুক্ত হয়।
  • বিবর্তন: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ব্রিটিশ রাজ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয়।

১৩ বছর পর মহাকরণের অলিন্দে পুনরায় মন্ত্রীদের আনাগোনা এবং ফাইলপত্রের ব্যস্ততা শুরু হওয়াকে বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল।

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন