Monday, 11 May, 2026
11 May
HomeদেশRelationship: কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে পরকীয়া! বলছে রিপোর্ট

Relationship: কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে পরকীয়া! বলছে রিপোর্ট

কর্মক্ষেত্রে পরকীয়া বা প্রেম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সমকালীন সমাজ কাঠামোর একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

সময়ের চাকায় মানুষের জীবনযাত্রা আজ এক অদ্ভুত মোড় নিয়েছে। কয়েক দশক আগেও কর্মজীবন আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে যে এক সুষ্পষ্ট লক্ষ্মণরেখা বিদ্যমান ছিল, বিশ্বায়নের এই যুগে তা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে আসছে। সকাল ন’টা থেকে বিকেল পাঁচটার অফিসের সংজ্ঞা বদলে এখন তা পরিণত হয়েছে অন্তহীন এক কর্মযজ্ঞে। এই দীর্ঘ সময়কাল যখন মানুষ তার পরিবার বা জীবনসঙ্গীর চেয়ে সহকর্মীদের সাথে বেশি অতিবাহিত করে, তখন সেখানে কেবল পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফোর্বস অ্যাডভাইজার এবং হিন্দুস্তান টাইমসের মতো প্রথম সারির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক সমীক্ষা এক চাঞ্চল্যকর সত্যকে সামনে এনেছে। দেখা যাচ্ছে, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ স্বীকার করেছেন যে তারা কোনো না কোনো সময়ে তাদের বর্তমান সঙ্গীর সাথে প্রতারণা করে অফিসের সহকর্মীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতির এক গভীর সামাজিক সংকটের প্রতিফলন।

আরও পড়ুনঃ মধ্যবিত্তের পকেটে টান! এফএমসিজি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

কর্মক্ষেত্রে এই ধরণের সম্পর্কের প্রসারের মূলে রয়েছে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় চাহিদা। যখন তুমি দিনে অন্তত আট থেকে দশ ঘণ্টা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সঙ্গে কাটাও, তখন তাদের সাথে একটি স্বাভাবিক নৈকট্য তৈরি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে অফিসের সহকর্মীকে ডেট করেছেন। এর অন্যতম কারণ হলো ‘শেয়ারড এক্সপেরিয়েন্স’ বা একই ধরণের অভিজ্ঞতার অংশীদার হওয়া। অফিসের ডেডলাইন, বসের বকুনি কিংবা প্রজেক্টের সাফল্য—এই সবকিছুই সহকর্মীরা একসাথে ভাগ করে নেন। এই অভিন্ন মানসিক চাপের মধ্যে একে অপরের প্রতি যে সহমর্মিতা তৈরি হয়, তা অনেক সময় বাড়িতে থাকা জীবনসঙ্গী বুঝতে অক্ষম হন। ফলস্বরূপ, অফিসের সেই মানুষটিই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়। ফোর্বস জানাচ্ছে, অনলাইন ডেটিং সাইটগুলোর তুলনায় কর্মক্ষেত্রে আলাপ হওয়া সঙ্গীকে বিয়ে করার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ। কারণ এখানে একে অপরের স্বভাব, কাজের ধরণ এবং নির্ভরযোগ্যতা আগে থেকেই পরখ করে নেওয়ার সুযোগ থাকে।

চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান:

৪০% চাকুরিজীবী সহকর্মীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে জীবনসঙ্গীকে ঠকিয়েছেন।

৪৩% মানুষ অন্তত একবার সহকর্মীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

কর্মক্ষেত্রে শুরু হওয়া সম্পর্কের পরিণতির (বিয়ে) হার ডেটিং অ্যাপের চেয়ে ২ গুণ বেশি

ব্যবসা ও ফিন্যান্স পেশায় এই হার সর্বোচ্চ ২০%।

আগ্রহী পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সব পেশাতেই কি এই প্রবণতা সমান? তথ্যের কাটাছেঁড়া করলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু পেশায় পরকীয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে ব্যবসায়িক পেশাদার বা বিজনেস প্রফেশনালরা। সমীক্ষা অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রের প্রায় ২০ শতাংশ কর্মী পরকীয়ায় লিপ্ত। এর ঠিক পরেই রয়েছে ব্যাংকিং এবং ফিন্যান্স বা অর্থলগ্নিকারী সংস্থার কর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে সংখ্যার হিসাব আর বাজারের ওঠানামার চাপে থাকা এই মানুষগুলো অনেক সময় মানসিক প্রশান্তির খোঁজে সহকর্মীর কাছাকাছি আসেন। তথ্যপ্রযুক্তি (IT), স্বাস্থ্য পরিষেবা (Healthcare) এবং আইনি পেশার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেও এই প্রবণতা প্রবল। চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ডিউটি এবং জরুরি অবস্থার মোকাবিলা করতে গিয়ে নার্স বা সহকর্মী চিকিৎসকদের সাথে তাদের এক গভীর আত্মিক টান তৈরি হয়। বিনোদন জগত এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্কের গ্রাফটি ঊর্ধ্বমুখী।

সাম্প্রতিক গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য দিক উঠে এসেছে—কর্মক্ষেত্রে পরকীয়ায় জড়ানোর ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে মূলত রয়েছে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ঘর-অফিস সামলানোর ক্লান্তি। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা যখন তাদের ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী বা সঙ্গীর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সময় বা গুরুত্ব পান না, তখন কর্মস্থলের সহকর্মীটিই হয়ে ওঠেন তাদের প্রধান কথা বলার মানুষ। এছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নয়ন এই লুকানো সম্পর্কের পথকে আরও প্রশস্ত করেছে। অফিসের অভ্যন্তরীণ মেসেজিং অ্যাপ (যেমন স্ল্যাক বা মাইক্রোসফট টিমস) কিংবা অফিশিয়াল ইমেল ব্যবহারের ছলে অনায়াসেই ব্যক্তিগত আলাপচারিতা চালিয়ে নেওয়া যায়। এটি একদিকে যেমন গোপনীয়তা রক্ষা করে, অন্যদিকে সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা তাদের অফিসের সম্পর্কটি দীর্ঘ সময় ধরে চরম গোপনীয়তায় রাখেন, যাতে ক্যারিয়ারের কোনো ক্ষতি না হয়।

আরও পড়ুনঃ নিজেকে বদলান! ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা; ফিরছে WFH

তবে এই ধরণের সম্পর্কের চড়া মাশুলও গুনতে হয়। অফিসের রোম্যান্স বা পরকীয়া যখন জানাজানি হয়, তখন তা কেবল গসিপ বা পরচর্চার বিষয় হয়ে থাকে না, বরং তা পেশাগত মর্যাদাকে ধূলায় মিশিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি হওয়া সুনাম এক নিমেষেই নষ্ট হয়ে যায়। অনেক করপোরেট সংস্থায় ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত এড়াতে সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ। ধরা পড়লে চাকরি হারানো বা ডিমোশনের মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়। শুধু তাই নয়, সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটলে একই ছাদের নিচে প্রতিদিন কাজ করাটা হয়ে ওঠে চরম যন্ত্রণাদায়ক। এটি কর্মদক্ষতা বা পারফরম্যান্সকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অফিসের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে অনেক প্রতিভাবান কর্মীকে অকালেই পদত্যাগ করতে হয়েছে। পারিবারিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব বিধ্বংসী। প্রতারণার খবর জানাজানি হলে তা বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে।

সবশেষে বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে পরকীয়া বা প্রেম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সমকালীন সমাজ কাঠামোর একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ সামাজিক জীব এবং নৈকট্য তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এই নৈকট্য যখন নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের সীমা লঙ্ঘন করে, তখনই বিপত্তি ঘটে। ফোর্বসের রিপোর্ট অনুযায়ী, যদিও ৪৩ শতাংশ সম্পর্ক বিয়ের দিকে গড়ায়, কিন্তু বাকি ৫৭ শতাংশই শেষ হয় তিক্ততা অথবা সামাজিক বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে। তাই কর্মক্ষেত্রে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ কাজের পরিবেশ এবং দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক সুখ নিশ্চিত করতে হলে এই অদৃশ্য দেয়ালটি রক্ষা করার দায়িত্ব প্রতিটি কর্মীর নিজের। আবেগ থাকবেই, কিন্তু সেই আবেগ যেন বিচারবুদ্ধিকে গ্রাস না করে, সেটাই হোক বর্তমান সময়ের চাকুরিজীবীদের মূলমন্ত্র।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন