রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ক্রমাগতই উঠে আসছে। এবার হুগলির বৈদ্যবাটিতে সরকারি জমি ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের জমিতে জিম ও কুকুর রাখার আলাদা ঘর তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘরে এসি থাকার দাবিও করা হয়েছে। শনিবার চাঁপদানীর বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিং এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে এমন ঘটনা দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তাঁর অভিযোগ, সরকারি জায়গা ব্যক্তিগত বিলাসিতার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি পুরো ঘটনার তদন্তের দাবিও জানান। দিলীপ সিং বলেন, “মানুষ ঠিকমতো থাকতে পারছে না, অথচ কুকুরের জন্য এসি লাগানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সরকারি জমিতে কীভাবে জিম ও কুকুর রাখার ঘর তৈরি হল, তার জবাব দিতে হবে।
বিধায়কের দাবি, জায়গাটি চাঁপদানীর প্রাক্তন বিধায়কের বিলাসিতার কেন্দ্র ছিল। এখনও সেই জায়গার চাবি তাঁর কাছেই রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে একাধিক মন্তব্য করেন।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কোট পরে নিজেদের বিধায়কদের আদালতে নিয়ে যান। কিন্তু সাধারণ মানুষের সমস্যা বা সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহার নিয়ে কোনও পদক্ষেপ দেখা যায় না।”
আরও পড়ুনঃ বঙ্গে ‘বুলডোজার রাজনীতি’তে গর্জে উঠলেন মমতা
অন্যদিকে, বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর আগে ইউনিটটি একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কী হচ্ছে, তা ওই সংস্থাই দেখভাল করে বলে তিনি দাবি করেন। পুরসভার কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই হলেও তাঁর তরফে জানানো হয়।
ঘটনায় আঙুল ওঠে চাঁপদানীর প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম গুঁইনের বিরুদ্ধে। তাঁর প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। সরকারি জমিতে এই ধরনের পরিকাঠামো কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।



