মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই নানাভাবে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমজনতার পাশে থাকাই তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। তাই সাধারণ মানুষের কথা, সমস্যা জানতে ‘জনতার দরবার’ শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সকাল ১০টা নাগাদ সল্টলেকের বিজেপি দফতরে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ খোঁজ নেই তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের, ছেলে গ্রেফতার
অভাব-অভিযোগের কথা জানাতে মানুষের ভিড় বিজেপির কার্যালয়ের বাইরে। কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কারণ, তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ ক্যামেরার সামনে তাঁদের অস্বস্তির কথা জানাতে দ্বিধা বোধ করতে পারেন। তাই সাধারণের অসুবিধা হবে, এমন পরিস্থিতি চাইছেন না শুভেন্দু অধিকারী।
কয়েকদিন আগেই ‘জনতার দরবার’ শুরু করার ঘোষণা করেছিল নবান্ন। তবে শোনা গিয়েছিল, জুন মাস থেকে শুরু হতে পারে। তার অনেক আগেই সোমবার (১৮ মে) থেকে শুরু হয়ে গেল এই কর্মসূচি। সপ্তাহে এক বা দু’দিন সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে থাকবেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, যাতে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সরকারে যে দলই থাকুক না কেন, সাধারণ মানুষের একগুচ্ছ অভাব-অভিযোগ থাকেই। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা আর নিয়মের বেড়াজালে সেইসব সমস্যা অনেক সময়ই মুখ্যমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছয় না। সাধারণ মানুষ নবান্নে বা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে চিঠি পাঠালেও, তা সব সময় নির্দিষ্ট টেবিলে পৌঁছয় না বলেই অভিযোগ। এবার সেই সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুনঃ গতকালের পর আজ সাতসকালে ফের ট্রেনে বিধ্বংসী আগুন
সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের সমস্যার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পারেন, সেই উদ্দেশেই এই ‘জনতার দরবার’। সাধারণ মানুষের অভিযোগ বা সমস্যার গুরুত্ব বিচার করে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি রাজ্যের আমজনতা।
মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ কিন্তু দেশে প্রথম নয়। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘জনতার দরবার’ রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেখানে গোরক্ষপুর বা লখনউতে যোগী নিজেই সাধারণ মানুষের আর্জি শোনেন। একই রকম ব্যবস্থা রয়েছে মধ্যপ্রদেশেও। অন্যদিকে, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীও সরাসরি রাজ্যবাসীর সমস্যা শোনেন, যে কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনশুনানি’।



