বিংশ শতকের ইতিহাসে কমিউনিজমের মতো এত আলোড়ন সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক মতবাদ খুব কমই আছে। একসময় এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে ছিল শোষণহীন, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন; অন্যদিকে বহু মানুষের কাছে এটি পরিণত হয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, দুর্ভিক্ষ, গণহত্যা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার দমনের প্রতীকে।
Karl Marx ও Friedrich Engels যখন উনবিংশ শতাব্দীতে কমিউনিজমের ধারণা নির্মাণ করলেন, তখন ইউরোপের শিল্পবিপ্লব-উত্তর সমাজে শ্রমিকদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। দীর্ঘ কর্মসময়, শিশুশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং সীমাহীন পুঁজিপতি-শোষণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কসের তত্ত্ব অনেকের কাছেই একমাত্র মুক্তির পথ বলে মনে হয়েছিল।
মার্কস মনে করেছিলেন, ইতিহাসের চালিকাশক্তি হল শ্রেণিসংগ্রাম। পুঁজিবাদ নিজের ভেতরের বৈপরীত্যেই একসময় ধ্বংস হবে, এবং শ্রমিক শ্রেণি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে এমন এক সমাজ গড়বে যেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে কিছু থাকবে না, শ্রেণিভেদ থাকবে না, রাষ্ট্রও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাবে। ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে আকর্ষণীয় ছিল, কারণ এটি সমতা ও সামাজিক ন্যায়ের কথা বলত। কিন্তু সমস্যা শুরু হল, যখন এই তত্ত্ব বাস্তব রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হয়। ইতিহাসের অভিজ্ঞতা দেখায়, কমিউনিজম প্রায় সর্বত্রই একদলীয় শাসন, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক অদক্ষতার দিকে গিয়েছে।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ অবশ্যই Soviet Union। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের পর Lenin-এর নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো। বিপ্লবের শুরুতে বহু মানুষ সত্যিই বিশ্বাস করেছিল যে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। কিন্তু খুব দ্রুতই দেখা গেল, “শ্রমিক শ্রেণির একনায়কতন্ত্র” আসলে পার্টির একনায়কতন্ত্রে পরিণত হচ্ছে। Lenin-এর সময় থেকেই বিরোধী দল নিষিদ্ধ হয়, সংবাদমাধ্যম পার্টির নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং গোপন পুলিশ Cheka বিরোধীদের নির্মম ভাবে দমন করতে শুরু করে।

তবে Joseph Stalin-এর আমলে এই দমননীতি এক ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।
স্ট্যালিনের শাসনকাল ছিল বিংশ শতকের অন্যতম বিতর্কিত ও ভয়াবহ রাজনৈতিক অধ্যায়। একদিকে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নকে দ্রুত শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন, নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং সোভিয়েত শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু অন্যদিকে তাঁর শাসন ছিল নির্মম দমননীতি, গণগ্রেপ্তার, শ্রমশিবির, রাজনৈতিক হত্যা এবং ইতিহাস বিকৃতির এক অন্ধকার যুগ।
স্ট্যালিনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল “ভয়!” তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্রকে শক্তিশালী রাখতে হলে সম্ভাব্য বিরোধিতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। ১৯৩০-এর দশকে তাঁর “Great Purge” বা মহাশুদ্ধি অভিযান শুরু হলো। সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির পুরনো বিপ্লবী নেতা, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার, লেখক, বিজ্ঞানী…..কেউই নিরাপদ ছিলেন না। সামান্য সন্দেহের ভিত্তিতেই মানুষকে “রাষ্ট্রদ্রোহী” বা “জনগণের শত্রু” বলে গ্রেপ্তার করা হত। অনেককে প্রকাশ্য বিচার দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত, আবার বহু মানুষকে পাঠানো হত Gulag শিবিরে।
আরও পড়ুনঃ বিজেপির এরকম রাজনৈতিক দাপট থাকবে কত বছর? বড় পূর্বাভাস
এই Gulag ব্যবস্থা ছিল এক বিশাল forced labor camp network, বিশেষ করে Russia-এর সাইবেরিয়ার দুর্গম অঞ্চলে। সেখানে বন্দিদের দিয়ে খনি, রেললাইন, কারখানা নির্মাণ করানো হত। প্রচণ্ড ঠান্ডা, অনাহার, রোগ এবং অমানবিক পরিশ্রমে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে। ইতিহাসবিদদের মধ্যে সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও এটি পরিষ্কার যে স্ট্যালিন আমলে কয়েক মিলিয়ন মানুষ এই repression-এর শিকার হয়েছিলেন।

স্ট্যালিনের আরেকটি ভয়াবহ অধ্যায় ছিল কৃষিক্ষেত্রে collectivization। কৃষকদের ব্যক্তিগত জমি কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত খামারে একত্রিত করা হয়। যারা বিরোধিতা করত, তাদের “kulak” বলে চিহ্নিত করা হত। বহু কৃষককে হত্যা করা হয় বা নির্বাসনে পাঠানো হয়। এর ফলে বিশেষত ইউক্রেন অঞ্চলে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। Holodomor নামে পরিচিত এই দুর্ভিক্ষে কয়েক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয় বলে বহু গবেষণায় উল্লেখ আছে।
কিন্তু না, স্ট্যালিন শুধু মানুষকে দমন করেই থামেননি; তিনি ইতিহাসকেও নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন। এখানেই আসে fake image বা manipulated photograph-এর বিষয়টি। সোভিয়েত প্রচারযন্ত্র অত্যন্ত সংগঠিত ছিল। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ও শিল্পকলার মাধ্যমে স্ট্যালিনকে প্রায় দেবতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হত। তাঁর চারপাশে একটি “cult of personality” তৈরি করা হয়েছিল।
স্ট্যালিনের অপছন্দের কোনও নেতা বা কর্মকর্তা যদি purge-এর শিকার হতেন, তবে শুধু তাকে হত্যা করাই নয়, তার অস্তিত্বকেও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হত। পুরনো গ্রুপ ফটোগ্রাফ থেকেও সেই ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া হত। এটি ছিল রাষ্ট্র-সমর্থিত image manipulation-এর অন্যতম কুখ্যাত উদাহরণ।
সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাগুলির একটি হল Leon Trotsky-কে ছবি থেকে মুছে ফেলা! ট্রটস্কি ছিলেন লেনিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং রুশ বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নেতা। কিন্তু স্ট্যালিন ক্ষমতায় শক্তিশালী হয়ে উঠলে ট্রটস্কি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত ট্রটস্কি নির্বাসিত হন এবং পরে মেক্সিকোতে নিহত হন। এর পর সোভিয়েত সরকার পুরনো বিপ্লবের বহু ছবি “retouch” করে ট্রটস্কিকে সরিয়ে দেয়, যেন তিনি কখনও ইতিহাসের অংশই ছিলেন না।

শুধু ট্রটস্কি নন, নিকোলাই ইয়েজোভ-এর মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও পরে ছবি থেকে উধাও হয়ে যান। এই ইয়েজোভ ছিলেন NKVD-র প্রধান এবং Great Purge-এর অন্যতম সংগঠক। কিন্তু পরে তিনিও স্ট্যালিনের সন্দেহের শিকার হন। একটি বিখ্যাত ছবিতে দেখা যায় স্ট্যালিন নদীর ধারে হাঁটছেন, পাশে ইয়েজোভ দাঁড়িয়ে আছেন। পরে সরকারিভাবে প্রকাশিত সংস্করণে ইয়েজোভ কে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়!

এই fake image তৈরির উদ্দেশ্য ছিল শুধু propaganda নয়; এটি ছিল memory control। রাষ্ট্র চাইত মানুষ যেন কেবল সেই ইতিহাসই জানবে যা পার্টি অনুমোদন করবে। George Orwell তাঁর Nineteen Eighty-Four উপন্যাসে এই ধরনের ইতিহাস বিকৃতির ধারণাকে গভীরভাবে তুলে ধরেছিলেন….“Who controls the past controls the future.”
স্ট্যালিনের প্রচারযন্ত্র শুধু ছবি বদলাত না; শিল্পকলা, সাহিত্য, সিনেমা, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করত। Socialist Realism নামে এক ধরনের সরকারি শিল্পরীতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে শ্রমিকদের সবসময় আনন্দিত, শক্তিশালী ও বিপ্লবের প্রতি অনুগত হিসেবে দেখানো হত। বাস্তব দুর্ভিক্ষ বা ভয়ের কোনও প্রতিফলন সেখানে থাকত না।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল,…স্ট্যালিনের এই fake image culture শুধু প্রযুক্তিগত প্রতারণা ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক অস্ত্র। যখন একটি রাষ্ট্র তথ্যের সমস্ত উৎস নিয়ন্ত্রণ করে, তখন সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়। মানুষ ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের বর্ণিত “official reality”-কেই সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য হয়।
স্ট্যালিনের শাসনের উত্তরাধিকার তাই দ্বিমুখী। একদিকে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিশ্বশক্তিতে পরিণত করেছিলেন; অন্যদিকে তাঁর শাসন মানবাধিকার, সত্য এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর এক ভয়াবহ আঘাত হানে। তাঁর সময়ের fake image ও historical erasure আজও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা, যখন রাষ্ট্র বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠী তথ্যের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পায়, তখন ইতিহাসও সহজেই রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়।
এখানে একটা মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে,…কেন প্রায় সব কমিউনিস্ট রাষ্ট্রেই এত দ্রুত রাজনৈতিক দমননীতি প্রতিষ্ঠিত হল? কারণ সম্ভবত কমিউনিজমের বাস্তব রূপায়ণে রাষ্ট্রকে সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রবল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছিল। যখন রাষ্ট্রই অর্থনীতির মালিক, সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস হয়ে ওঠে, তখন বিরোধিতা সহ্য করার মানসিকতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। ফলত বিরোধী মতকে “শ্রেণিশত্রু” বলে দমন করাই হয়ে ওঠে স্বাভাবিক ব্যাপার।
সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম দিকের শিল্পায়ন অবশ্যই দ্রুত ছিল। ১৯২৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে ভারী শিল্পে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করার পেছনে এই শিল্পভিত্তির বড় ভূমিকা ছিল। পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশ গবেষণায়ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। ১৯৫৭ সালে Sputnik উৎক্ষেপণ এবং Yuri Gagarin-এর মহাকাশযাত্রা গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। কিন্তু এখানেই কমিউনিজমের একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যায়….রাষ্ট্র সামরিক ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য দৈনন্দিন পণ্যের যোগান দিতে ব্যর্থ হয়।
১৯৭০-এর দশকের পর সোভিয়েত অর্থনীতি স্থবির হতে শুরু করে। দোকানে নিত্যপণ্যের ঘাটতি, দীর্ঘ লাইন, নিম্নমানের পণ্য….এসব ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। কারণ কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত অর্থনীতি মানুষের বাস্তব চাহিদা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল। Moscow-এর কোনও দপ্তরে বসে কেউ ঠিক করতে পারে না যে Vladivostok-এর মানুষ কত জুতো চাইবে বা Kiev-এর মানুষের কী ধরনের খাবারের প্রয়োজন। বাজারব্যবস্থার একটি বড় শক্তি হল তথ্যের বিকেন্দ্রীকরণ। লক্ষ লক্ষ মানুষের সিদ্ধান্ত একসঙ্গে মিলে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য তৈরি করে। কমিউনিস্ট ব্যবস্থায় এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছিল।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রণোদনা বা incentive। মানুষ কেন বেশি পরিশ্রম করবে, যদি তার ব্যক্তিগত লাভের সুযোগ সীমিত হয়? যদি সে দেখে যতই পরিশ্রম করুক না কেন দিনের শেষে তার প্রাপ্তি সীমিত এবং পূর্বনির্ধারিত?
কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলি বিশ্বাস করত যে আদর্শবাদ ও সামাজিক চেতনা মানুষকে চালিত করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ ব্যক্তিগত উন্নতি, সম্পদ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দ্বারা প্রভাবিত হয়। একজন মানুষ তখনই পরিশ্রম করে যখন সে দেখে তার সামনে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সম্ভাবনা আছে, যখন সে দেখবে অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয়ের সম্ভাবনা আছে…. তখনই সে পরিশ্রম করে, তার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
কিন্তু কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে প্রতিভাবান এবং সাধারণ…. সকলের জন্যই “একই পরিমাণ রুটি ও মাংস” বরাদ্দ! ফলে কাজের উৎসাহ ও উৎপাদনশীলতা কমতে বাধ্য।
সোভিয়েত কারখানাগুলিতে প্রায়ই এমন হত যে শুধুমাত্র নির্ধারিত কোটা পূরণ করার জন্য অপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করা হচ্ছে। গুণগত মানের কোনও গুরুত্ব ছিল না।
পূর্ব ইউরোপেও একই চিত্র দেখা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর Poland, Hungary, East Germany, Romania-সহ বহু দেশে সোভিয়েত মডেলের কমিউনিজম চাপিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু সাধারণ মানুষ দ্রুত বুঝতে পারল যে পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় তাদের জীবনমান ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। পূর্ব জার্মানির মানুষ পশ্চিম জার্মানিতে পালানোর জন্য জীবন বাজি রাখত। Berlin Wall আসলে শুধু একটি দেওয়াল ছিল না; সেটি ছিল দুই ব্যবস্থার মধ্যে জীবনমানের পার্থক্যের প্রতীক। একটু সুস্থ একটু উন্নত জীবনের আশায় এই বার্লিন প্রাচীর টপকে পূর্ব জার্মানি থেকে পশ্চিম জার্মানিতে পালাতে গিয়ে বহু মানুষ সোভিয়েত বাহিনীর গুলিতে প্রাণ ত্যাগ করেছিল।
১৯৮৯ সালে যখন বার্লিন প্রাচীর ভেঙে পড়ল, সেটি ছিল কমিউনিজমের নৈতিক পরাজয়ের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। লক্ষণীয় বিষয় হল, পূর্ব ইউরোপে কমিউনিজমকে রক্ষা করার জন্য সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেনি। বরং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এর পতন উদযাপন করেছিল। এটি দেখায় যে রাষ্ট্রের প্রচারযন্ত্র যতই শক্তিশালী হোক, দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি দমন করা যায় না।

তবে কমিউনিজমের ইতিহাসে স্ট্যালিনই একমাত্র শাসক নন যাঁর শাসন দমননীতি, গণহত্যা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার দমনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিশ শতকের বহু কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে দেখা গেছে, বিপ্লবের নামে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে একদল বা এক ব্যক্তির হাতে, এবং ধীরে ধীরে সেই রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে ভয়ের সাম্রাজ্যে। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা আলাদা হলেও একটি অদ্ভুত মিল বারবার চোখে পড়ে….ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বিরোধীদের নির্মূল, প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার এবং “জনগণের স্বার্থ”-এর নামে অমানবিক সহিংসতা।
Mao Zedong-এর নেতৃত্বাধীন China তার অন্যতম বড় উদাহরণ। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর বহু চীনা সত্যিই আশা করেছিলেন যে শতাব্দীর অপমান, দারিদ্র্য এবং গৃহযুদ্ধের অবসান হবে। কিন্তু Mao খুব দ্রুত একটি সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেন। তাঁর “Great Leap Forward” ছিল এমন এক প্রকল্প, যেখানে রাষ্ট্র জোর করে কৃষকদের commune-এ সংগঠিত করে দ্রুত শিল্পায়নের চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় কর্মকর্তারা মিথ্যা উৎপাদনের রিপোর্ট পাঠাতেন, কারণ সত্য বললে শাস্তির ভয় ছিল। ফলাফল ছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী ১.৫ কোটি থেকে ৪.৫ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

এরপর আসে Cultural Revolution। Mao মনে করেছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরেই “বুর্জোয়া মানসিকতা” ঢুকে পড়েছে। ছাত্রদের Red Guard বাহিনীতে সংগঠিত করে শিক্ষক, অধ্যাপক, শিল্পী, লেখক এমনকি প্রবীণ বিপ্লবীদের বিরুদ্ধেও আক্রমণ চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে পড়ে, বই পোড়ানো হয়, মানুষকে প্রকাশ্যে অপমান করা হত। অনেককে মারধর করে হত্যা করা হয় বা আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়। Mao-এর ব্যক্তিপূজা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাঁর “Little Red Book” প্রায় ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা পেয়েছিল।
Pol Pot-এর Cambodia ছিল আরও ভয়াবহ। Khmer Rouge ক্ষমতায় আসার পর Pol Pot ঘোষণা করেন যে দেশকে “Year Zero” থেকে নতুন করে শুরু করতে হবে। শহরকে “পুঁজিবাদের প্রতীক” বলে গণ্য করা হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষকে জোর করে গ্রামে পাঠানো হয়। ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, এমনকি যে কোনো চশমা পরা মানুষকেও “বুদ্ধিজীবী” সন্দেহে হত্যা করা হত! পরিবার ভেঙে দেওয়া হয়, ধর্ম নিষিদ্ধ করা হয়। Killing Fields-এ গণকবরের পর গণকবর তৈরি হয়। মাত্র চার বছরে প্রায় ১৭ থেকে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা তখনকার কম্বোডিয়ার জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ।

North Korea-এর Kim dynasty-ও কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্রের আরেকটি চরম উদাহরণ। Kim Il Sung থেকে শুরু করে Kim Jong Il এবং Kim Jong Un পুরো রাষ্ট্রকে একটি ব্যক্তিপূজার কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া প্রায় কোনও স্বাধীন মতপ্রকাশ নেই। লক্ষাধিক মানুষ রাজনৈতিক বন্দিশিবিরে আটক ছিল বা আছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে। ১৯৯০-এর দশকের দুর্ভিক্ষে বহু মানুষ অনাহারে মারা গেলেও সরকার সামরিক শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছিল।

Nicolae Ceaușescu ( চাওসেস্কু)-এর Romania-ও ছিল এক অদ্ভুত ব্যক্তিপূজার রাষ্ট্র। চাওসেস্কু নিজেকে জাতির মহান ত্রাতা হিসেবে তুলে ধরতেন। তাঁর গোপন পুলিশ Securitate গোটা সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল। মানুষ ফোনে কী বলছে, ঘরে কী আলোচনা করছে….সবকিছুর উপর নজরদারি চলত। দেশের ঋণ শোধ করার জন্য খাদ্য ও বিদ্যুৎ রেশনিং করা হয়, অথচ চাওসেস্কু নিজের জন্য বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করছিলেন, তার বাথরুমে ছিল সোনার কল, সোনার কমোড! ১৯৮৯ সালের বিপ্লবের সময় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

Enver Hoxha-এর Albania ছিল ইউরোপের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলির একটি। Hoxha এতটাই সন্দেহপ্রবণ ছিলেন যে গোটা দেশজুড়ে হাজার হাজার বাঙ্কার তৈরি করেছিলেন সম্ভাব্য আক্রমণের ভয়ে। বিদেশি সংস্কৃতি, ধর্ম, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা….সব কিছুর উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল। Albania-কে কার্যত পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল।
Fidel Castro-এর Cuba নিয়ে বিতর্ক আরও জটিল। অনেকেই Castro-র শিক্ষা ও স্বাস্থ্যনীতির প্রশংসা করেন। কিন্তু একইসঙ্গে তাঁর শাসনে বিরোধী সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং dissident-দের উপর দমননীতিও ছিল। সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং বহু মানুষ রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি হন। হাজার হাজার কিউবান দেশ ছেড়ে পালিয়ে USA তে আশ্রয় নেন।
Ho Chi Minh-এর Vietnam-এও যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে re-education camp চালু করা হয়েছিল, যেখানে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বহু প্রাক্তন কর্মকর্তা ও সৈন্যকে আটক রাখা হয়। যদিও ভিয়েতনাম পরে অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে যায়, তবুও দীর্ঘদিন রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত ছিল।

এই সমস্ত উদাহরণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল আছে। কমিউনিস্ট শাসকেরা প্রায়ই নিজেদের “ইতিহাসের সঠিক প্রতিনিধি” হিসেবে তুলে ধরতেন। ফলে যে কোনো বিরোধিতাকে কেবল রাজনৈতিক মতভেদ হিসেবে নয়, “জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” হিসেবে চিহ্নিত করা হত। এখান থেকেই গণগ্রেপ্তার, forced confession, show trial এবং execution-কে নৈতিকভাবে বৈধ বলে উপস্থাপন করা সম্ভব হত।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, এই রাষ্ট্রগুলিতে ব্যক্তিপূজা প্রায় ধর্মীয় পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। স্ট্যালিন, মাও, চাওসেস্কু বা কিম সব ক্ষেত্রেই শাসককে প্রায় অমর, সর্বজ্ঞ ও ভুলহীন নেতা হিসেবে প্রচার করা হত। স্কুলের বই, সিনেমা, পোস্টার, সংবাদমাধ্যম সব জায়গায় একই চিত্র। এর ফলে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন হয়ে পড়ত।
তবে এটাও সত্য যে ইতিহাসকে শুধু সাদা-কালোয় বিচার করলে ভুল হবে। বহু কমিউনিস্ট রাষ্ট্র শিল্পায়ন, শিক্ষার প্রসার এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতিতে কিছু বাস্তব সাফল্য অর্জন করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই উন্নয়নের মূল্য কী ছিল? যখন একটি রাষ্ট্র মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়, ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে এবং বিরোধিতাকে অপরাধে পরিণত করে, তখন উন্নয়নের পরিসংখ্যানও নৈতিক বিতর্ক থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।
বিংশ শতকের এই অভিজ্ঞতাগুলি আজও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলি শুধু কমিউনিজমের ইতিহাস নয়; এগুলি ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, propaganda, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিপূজার বিপদ সম্পর্কেও গভীর সতর্কবার্তা।
এখানে কমিউনিস্ট ব্যবস্থার আরেকটি গভীর সমস্যা স্পষ্ট হয়, ভয়ের সংস্কৃতি। যখন কোনও কর্মকর্তা সত্য কথা বললে শাস্তি পাওয়ার আশঙ্কা করেন, তখন পুরো প্রশাসন মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে যায়। উপরতলার নেতারা বাস্তব পরিস্থিতি জানতে পারেন না, কিংবা জানতে চান না। ফলে ভুল নীতির সংশোধন হয় না।
মাও-এর Cultural Revolution আরও ধ্বংসাত্মক ছিল। ছাত্রদের “Red Guard” বানিয়ে বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া হয়। প্রাচীন সংস্কৃতি ধ্বংস করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়ে। একটি রাষ্ট্র যখন মতাদর্শকে মানবিকতার উপরে স্থান দেয়, তখন সমাজ কত দ্রুত উন্মত্ততায় ডুবে যেতে পারে, চীনের সেই অভিজ্ঞতা তা দেখিয়েছে।
তবে চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক সাফল্য নিয়ে অনেকেই যুক্তি দেন যে কমিউনিজম ব্যর্থ নয়। কিন্তু বাস্তবতা একটু জটিল। Deng Xiaoping ক্ষমতায় আসার পর চীন ধীরে ধীরে বাজার অর্থনীতি, ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং বিদেশি বিনিয়োগের পথ খুলে দেয়। অর্থাৎ চীনের উত্থান মূলত কমিউনিজমের কড়া অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে সরে আসার ফল। আজকের চীনে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রবল হলেও অর্থনীতি অনেকাংশে বাজারনির্ভর।
নর্থ কোরিয়া এখনও বিশ্বের অন্যতম কঠোর কমিউনিস্ট রাষ্ট্র। এখানে রাষ্ট্র কার্যত একটি বংশগত একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। Kim পরিবারকে ঘিরে ব্যক্তিপূজার মাত্রা এতটাই প্রবল যে সেটি প্রায় ধর্মীয় রূপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা প্রায় নেই বললেই চলে। ১৯৯০-এর দশকের দুর্ভিক্ষে লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়, অথচ রাষ্ট্র সামরিক খাতে বিপুল ব্যয় চালিয়ে যায়। উত্তর কোরিয়া দেখায়, একটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘ওয়াকা ওয়াকা’-র পর এবার ‘ডাই ডাই’! বিশ্বকাপের নতুন গানে মাত করলেন শাকিরা
কমিউনিজমের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা সম্ভবত অর্থনীতিতে নয়, মানবমনের বোঝাপড়ায়। এই মতবাদ ধরেই নেয় যে মানুষ প্রধানত সমষ্টিগত চেতনা দ্বারা চালিত হবে। অর্থাৎ তারা মানুষকে একটি উন্নত মানের প্রাণী ছাড়া কিছু গণ্য করে না।
কিন্তু বাস্তবে মানুষ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা বহন করে। এই আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি দমন করতে গেলে রাষ্ট্রকে ক্রমশ দমনমূলক হতে হয়। তাই ইতিহাসে প্রায় সব কমিউনিস্ট রাষ্ট্রেই গোপন পুলিশ, সেন্সরশিপ, শ্রমশিবির ও রাজনৈতিক দমন দেখা গেছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পার্টি নিজেকে “ইতিহাসের সঠিক প্রতিনিধি” হিসেবে দাবি করে। ফলে বিরোধিতাকে শুধু রাজনৈতিক মতভেদ নয়, নৈতিক অপরাধ হিসেবেও দেখা হয়। এখান থেকেই “শ্রেণিশত্রু”, “জনগণের শত্রু”, “বিপ্লববিরোধী” এই ধরনের শব্দবন্ধের জন্ম। একবার কোনও গোষ্ঠীকে অমানবিক বলে চিহ্নিত করা হলে তাদের বিরুদ্ধে নির্মমতা চালানো সহজ হয়ে যায়।
আজকের পৃথিবীতে খুব কম দেশই খাঁটি কমিউনিজম অনুসরণ করে। চীন, ভিয়েতনাম।সবাই বাজার অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদান গ্রহণ করেছে। বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত মতাদর্শকে নমনীয় হতে বাধ্য করেছে। ইতিহাসের শিক্ষা সম্ভবত এই যে, সম্পূর্ণ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি যেমন বিপজ্জনক, তেমনি লাগামহীন পুঁজিবাদও বৈষম্য সৃষ্টি করে। মানুষের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক উদ্ভাবন এবং সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্যই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
কমিউনিজমের ইতিহাস তাই শুধু একটি মতবাদের ব্যর্থতার ইতিহাস নয়; এটি মানুষের ক্ষমতালোভ, আদর্শবাদ, ভয়, স্বপ্ন এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষারও ইতিহাস। বিশ শতকের অসংখ্য বিপ্লবী সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন যে তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক পৃথিবী গড়ছেন। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রেই সেই স্বপ্ন পরিণত হয়েছে দমনমূলক রাষ্ট্রযন্ত্রে।
এই ব্যর্থতাই কমিউনিজমের ট্র্যাজেডি।



