সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ ফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে এলাকায় আর সেভাবে দেখা মিলছে না সবং বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার। বিজেপি প্রার্থী অমল কুমার পণ্ডার কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত নিজেকে সমস্ত রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং জনসমক্ষ থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। আর তা নিয়েই এখন সবংয়ের হাটে-বাজারে জোর জল্পনা।
আরও পড়ুনঃ আজও রাজা! ‘ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র’ রামমোহন রায়
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সবংয়ের ভিকনীনিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত মানস ভূঁইয়ার বাড়িটি এক সময় ছিল এলাকার রাজনীতির প্রধান ভরকেন্দ্র। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী, অনুগামী এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা সাধারণ মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা থাকত না। রাজনৈতিক আলোচনা, দলীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক কিংবা এলাকার বিরোধ মেটানো, সব কিছুরই আঁতুড়ঘর ছিল এই বাড়িটি। কিন্তু নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর সেই চেনা ছবিতে রাতারাতি আকাশ-পাতাল পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমানে বাড়ির চারপাশে নেমে এসেছে এক ভূতুড়ে নীরবতা। নেই আগের মতো কোলাহল বা রাজনৈতিক কর্মব্যস্ততা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, অতিকায় এই প্রাসাদে বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মী রয়েছেন (এক মহিলা ও এক পুরুষ)। তাঁরাই মূলত রান্নাবান্না এবং ফাঁকা বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য পুলিশে বদলি ও পদোন্নতির নিলাম; সিন্ডিকেটের কব্জায় ভবানীভবন!
নির্বাচনে হারের পর প্রাক্তন মন্ত্রী ঠিক কী কারণে এবং কোথায় চলে গিয়েছেন, তা নিয়ে তাঁর দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি ঘিরে সবংয়ের রাজনৈতিক মহলে নানা চিমটি কাটা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, বহু বছর পর সবংয়ের রাশ হাতছাড়া হওয়ায় তীব্র রাজনৈতিক হতাশা থেকেই তিনি আপাতত অজ্ঞাতবাসে গিয়েছেন। অন্য অংশের দাবি, রাজনৈতিক কোলাহল থেকে দূরে থেকে স্রেফ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।
একদা দাপুটে নেতার দেখা না মিললেও, পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর একটা বড় অংশ কিন্তু হাঁফ ছেড়ে বাঁচছেন। তাঁদের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর এবং মানস ভূঁইয়া আড়ালে চলে যাওয়ার পর থেকে এলাকায় আগের মতো কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্ষমতা দখলের লড়াই বা আতঙ্কের পরিবেশ নেই। একদা বারুদে ঠাসা সবংয়ের মাটি এখন অনেকটাই শান্ত। সব মিলিয়ে, মেদিনীপুরের রাজনীতির অন্যতম ধুরন্ধর চাণক্যের এই রহস্যময় নিস্তব্ধতা এখন সবংয়ের মোড়ে মোড়ে চায়ের আড্ডার মূল চর্চার বিষয়।



