শুভজিৎ মিত্র, কলকাতা
সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনীতিতে আবার একটা পুরনো কথা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে— ‘বামেদের ভোট রামে’ যাওয়া। গত কয়েক বছরের মতো এবারও এই হাওয়া বেশ স্পষ্ট। তবে এবারের ভোটের পর রাজ্যজুড়ে একটা নতুন ছবি দেখা গেল।
আরও পড়ুনঃ ‘সবে ট্রেলার, পিকচার এখনও বাকি হ্যয়’ “এই বুড়ো চোর…”-কে সৌগত রায় কাঁচা ডিম ছুড়ল জনতা
ওপেন সিক্রেট!
গত প্রায় ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের আমলে, যে সমস্ত বামপন্থী পার্টি অফিসগুলো বন্ধ ছিল বা বাম কর্মীরা ভয়ে খুলতেই পারেননি। সেগুলো এবার, বিজেপির আমলে আবার খুলতে শুরু করেছে। সরাসরি কোনো জোট না হলেও, বিজেপির এক ধরণের পরোক্ষ সহযোগিতাতেই যে, “লাল ফৌজের কর্মীরা তাঁদের পুরনো কার্যালয়গুলো ফিরে পাচ্ছেন, এখন এটা বঙ্গ রাজনীতিতে ওপেন সিক্রেট।”
বঙ্গ বিজেপির নতুন কৌশল!
বর্তমান বিজেপি সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও কাজের মধ্যেও ইদানীং বামেদের চিন্তাভাবনার একটা স্পষ্ট ছাপ বা ছায়া দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শাসকদলের এই চাল আসলে বামেদের ভোট ব্যাংককে নিজেদের দিকে টেনে রাখার একটা কৌশল।
গঠনমূলক সমালোচনার ওপর জোর
এই পরিস্থিতিতে বামেদের অন্দরেই এখন, নিজেদের হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক জমি আর অস্তিত্ব যদি সত্যিই ফিরিয়ে আনতে ফের উদ্যোগী হতে হবে।তার জন্য নির্বাচন পরবর্তীতে,তৃণমূল নেত্রীর প্রচ্ছন্ন জোটের হাতছানিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে,রাজ্যের মূল রাজনীতিতে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে গেলে এখন,বিজেপির অন্ধ সমালোচনার পথ থেকে সরে এসে গঠনমূলক সমালোচনা করাটা সঠিক সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘বেনোজল’! বহরমপুরের যুবক আটক
সদর্থক নীতিগুলির সমর্থন
আসলে,এখন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বামেদের মূলস্রোতে ফিরে আসার জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন,এখন আর পুরনো জেদ ধরে না রেখে সময়ের দাবি মেনে, “বিজেপির জনমুখী ও উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে সমর্থন জানানো দরকার।” কারণ,বিজেপির সময়েই বামেরা অন্তত, নিজেদের পার্টি অফিসগুলো খোলার এবং রাজনৈতিক কাজ করার পরিবেশ ফিরে পেয়েছে।তাই তৃণমূলের বিরোধিতাকে আরও জোরালো করতে এবং নিজেদের টিকিয়ে রাখতে,বিজেপির সদর্থক নীতিগুলোকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করার কথা ভাবা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে,বাংলার রাজনীতিতে নিজেদের চেনা পরিচিতি ও শক্তি ফিরে পেতে গেলে,বর্তমান বাম নেতাদের শত্রু-মিত্রর পুরনো হিসেবটা এবার বদলাতেই হবে। তৃণমূলের বিকল্প হয়ে উঠতে গেলে,কেবল মুখের কথায় হবে না। বাস্তব পরিস্থিতিটাও বুঝতে হবে,তার তৃণমূলের নীতির বিরোধিতা করে,বিজেপির উন্নয়ন ও গঠনমূলক কাজের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক সমর্থন জোগানোই,’এখন বামেদের জন্য সময়ের দাবি।’ এই নতুন কৌশলই হয়তো আগামী দিনে,রাজ্যের রাজনীতিতে বামেদের আবার প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারে।



