কলকাতার মেয়রের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ইস্তফা দেননি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিম। (পুরনো) তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পদত্যাগের অনুরোধ মেনে নিয়েছেন। কিন্তু প্রাক্তন মন্ত্রী এখনও তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দেননি। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের বিশ্বস্ত সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে মেয়র পদ ছাড়ার বিষয়তি তিনি নতুন করে ভাবনাচিন্তা করে দেখছেন। সেইসঙ্গে তিনি আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে যে যোগ দেন, তা নিয়ে যে দলের অন্দরেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল, তার পালটা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে গিয়ে বেশ করেছেন।
কেন শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ? ক্ষোভপ্রকাশ করেন কেউ–কেউ
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নবান্নে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে ফিরহাদ যে যোগ দেন, তা নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ-কেউ প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মতে, বিরোধী দলে থেকে বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার রাজনৈতিক বার্তা দলের জন্য ইতিবাচক নয়।
আরও পড়ুনঃ অরূপ-স্বরূপের হাত থেকে ‘দখল’ মুক্ত লোকনাথ বাবা
ঠিক করেছি শুভেন্দুর বৈঠকে গিয়ে, সাফ বার্তা ফিরহাদের
তবে দলের এই সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ফিরহাদ। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূলের এক শীর্ষনেতা বলেছেন যে ফিরহাদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একজন বিধায়ক এবং কলকাতার মেয়র হিসেবে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি সঠিক কাজই করেছেন। রাজনীতি এবং প্রশাসনকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। রাজনীতি থাকবে রাজনীতির জায়গায়। প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সেটাকে মিশিয়ে দেওয়া ঠিক নয় বলে সওয়াল করেন ফিরহাদ।
আরও পড়ুনঃ নব্য তৃণমূলে দূরদূরান্ত অব্দি নেই ‘ভাইপোর’ কাল ছায়া! কি করবেন ‘পিসি’?
নয়া চাল ফিরহাদের?
ওই তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন যে কয়েকদিন আগে পর্যন্ত কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ভাবছিলেন ফিরহাদ। গতকাল মমতাও তাঁকে সবুজ সংকেত দিয়ে দেন।নাম গোপন রাখার শর্তে তৃণমূলের ওই শীর্ষনেতা বলেছেন, ‘কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ফিরহাদ হাকিম। তিনি কয়েকদিন আগে পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির পরে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছেন।’
আর সেই বিষয়টি সামনে এসেছে এমন একটা দিনে, যেদিন ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের পরিবর্তে ঋতব্রতদের শিবিরকে ‘আসল তৃণমূলের’ তকমা দেওয়া হয়েছে। সেই আবহে ফিরহাদ কি নয়া কোনও চাল দেবেন?



