সপ্তাহখানেক ধরে এশিয়ার বৃহত্তম বইপাড়া কলকাতা কলেজ স্ট্রিটে হকার উচ্ছেদের খবর ছড়িয়েছিল। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বই পাড়ার একাধিক ছোট বিক্রেতা, হকাররা। শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক কর্মসূচিও। এই পরিস্থিতিতে বইপাড়ার হকারদের সরকারি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল কলকাতা পুরসভা৷
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বই পাড়ার হকার উচ্ছেদের খবরে জল ঢেলে দিলেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে ও কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবেন্দ্র প্রতাপ সিং। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে বলেন, “কলকাতা কলেজ স্ট্রিটে হকার উচ্ছেদ নিয়ে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। কলেজস্ট্রিটে হকার উচ্ছেদ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। হকার উচ্ছেদ নিয়ে অনেক রকম গুজব রটেছে। যে নোটিশটি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে, সেই নোটিশ এআই জেনারেটেড। সেই ঘটনাই ইতিমধ্যে আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি।”
আরও পড়ুনঃ ওসমান হাদী ইস্যুতে মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থানায়
কলকাতা বই পাড়ার বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিটের একাধিক দোকানদার দাবি করেছিলেন যে, গত 28 মে অর্থাৎ বকরি ঈদের ছুটির দিনে বেশ কয়েকজন এসে প্রতিটি দোকানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। ছুটির দিন থাকা সত্ত্বেও যে কজন হকার দোকান খুলেছিলেন তাদের প্রত্যেককে বলা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে দোকান গুটিয়ে নিতে। বিশেষ করে যাঁরা ফুটপাতের উপরে কিংবা রাস্তার উপরে ছোট স্টল বা টেবিল পেতে ব্যবসা করেন তাদের প্রত্যেককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন প্রকার নোটিশ বা কাগজ ধরানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় বই পাড়ায়।
আরও পড়ুনঃ ডিম-ইটের বৃষ্টিতে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, উঠল ‘চোর’ স্লোগান
সাহিত্য প্রেমীদের তরফে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সিপিআইএমের তরফে গতকাল কফি হাউজের সামনে পথসভার আয়োজন করা হয়। এরপরে বৃহস্পতিবার বিকালে বই পাড়ায় হকার উচ্ছেদের খবরে জল ঢেলে দেয় প্রশাসন।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবেন্দ্র প্রতাপ সিং বলেন, “বই পাড়া সংলগ্ন দুটি থানা জোড়াসাঁকো এবং আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় আমরা খোঁজ নিয়েছি। পুরসভার তরফে বরো অফিসে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। উভয় জায়গা থেকে কোনও রকম হকার উচ্ছেদের বার্তা দেওয়া হয়নি। দুই থানার কোনও পুলিশ আধিকারিক বা কর্মীকে বই পাড়ায় উচ্ছেদের বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কিন্তু, সারা বছরই যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদের ড্রাইভ চলতে থাকে।”



