একটানা ভারতের ‘দীর্ঘতম’ সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার এই নজির গড়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা মোদির নেতৃত্ব, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি-সহ অনেকেই। এই নতুন নজির গড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিও দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন সংস্কৃত শ্লোক। মোদির বার্তা, ‘জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করাটাই সুশাসনের সবচেয়ে বড় ধাপ। যে ব্যক্তি বিনয়ের সঙ্গে সমস্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করে, সেই জনতার বিশ্বাস অর্জন করে। বিনয়ী রাজাই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন।’
ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে আজ এক ঐতিহাসিক দিন। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জহরলাল নেহরুর বহু বছরের পুরোনো রেকর্ড আজ ভেঙে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। দেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় একটানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির এখন তাঁর দখলে। আর এই মহা-রেকর্ড গড়ার দিনেই কী কোনও বড় ঘোষণা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী? আজ, বুধবার সন্ধ্যে ঠিক ৭টায় দেশের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নরেন্দ্র মোদী।
বুধবার সকালেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে কুর্নিশ জানিয়ে মন্ত্রিসভায় একটি বিশেষ প্রস্তাবও পাস করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫২ সালে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত টানা ৪,৩৯৮ দিন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন জহরলাল নেহরু। আজ, ১০ জুন ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ করলেন। এর ফলে নেহরুর সেই প্রায় সাত দশকের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী টানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি।
২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার দেশের মসনদে বসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এরপর ২০১৯ এবং অতি সম্প্রতি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বারের জন্য এনডিএ (NDA) সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ইন্দিরা গান্ধী বা অন্যান্য নেতারা দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী থাকলেও তাঁদের কার্যকাল একটানা ছিল না, মাঝে বিরতি ছিল। কিন্তু মোদীর ক্ষেত্রে এই সফর সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় ঢুকেই চালিয়ে খেলছে বর্ষা, আকাশ কালো করে ঝেঁপে বৃষ্টি কলকাতায়
রেকর্ড গড়ার দিনেই সন্ধ্যে ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর এই আচমকা ভাষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে গত ১২ বছরের সরকারের খতিয়ান, দেশের ডিজিটাল বিপ্লব, গরিব কল্যাণ প্রকল্প এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে পারেন। পাশাপাশি, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও তিনি বার্তা দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই বিশ্বের একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এই ঐতিহাসিক কৃতিত্বের জন্য মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে সব চর্চাকে ছাপিয়ে এখন নজর আজ সন্ধ্যে ৭টার দিকে। দেশের দীর্ঘতম মেয়াদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আজ দেশবাসীকে কী বার্তা দেন, সেটাই এখন দেখার।


