তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি আরও বাড়ল। ২০২১ সালের ত্রিপুরা-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে খোয়াই আদালত। আদালতের সমন আলিপুর আদালতের মাধ্যমে তাঁর কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে অভিষেক বর্তমানে দিল্লিতে থাকায় নোটিসটি গ্রহণ করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
আরও পড়ুনঃ বড় সিদ্ধান্ত, কড়া পদক্ষেপ; আর কোনও সময় দেওয়া হবে না অভিষেককে
ত্রিপুরার খোয়াই আদালতের জারি করা সমন পৌঁছে দিতে বুধবার বিকেলে কালীঘাটের ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছন আদালতের নিযুক্ত বেলিফ। এই ঠিকানাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সরকারি দফতর। সূত্রের খবর, সমনটি স্পিড পোস্টে পাঠানো হয়নি। খোয়াই আদালতের নির্দেশে আলিপুর আদালত এক জন বেলিফ নিয়োগ করে নোটিসটি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় থানাকে সঙ্গে নিয়েই এই ধরনের সমন পৌঁছে দিতে হয়। সেই কারণে বেলিফ প্রথমে কালীঘাট থানায় যান এবং পরে পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছন।
আদালতের নির্দেশ ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে সমন তুলে দিতে হবে। তা সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট ঠিকানার দেওয়ালে নোটিস সাঁটিয়ে তার প্রমাণ হিসেবে ছবি তুলতে হবে। সেই সময় বাড়ি সংলগ্ন দলীয় দফতরে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সহ কয়েকজন নেতা। সূত্রের দাবি, পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে কুণাল ঘোষ বাইরে এসে বেলিফের সঙ্গে কথা বলেন এবং নোটিসটি গ্রহণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান, যাতে দেওয়ালে সমন সাঁটানোর প্রয়োজন না হয়।
এরপর বেলিফকে মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। পরে তিনি বাড়ির সামনের অংশে প্রবেশ করেন এবং সূত্রের দাবি, ভিতরে উপস্থিত এক কর্মীর মাধ্যমে নোটিস গ্রহণ করিয়ে সমন জমা দিয়ে যান। ফলে দেওয়ালে নোটিস সাঁটানোর প্রয়োজন হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ত্রিপুরার খোয়াই থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রেক্ষিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে হাজিরার সমন পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ আইনি বিষয়। এ বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।’
আরও পড়ুনঃ এপ্রিলে ‘মমতা দুর্নীতিবাজ’! রঙ পাল্টে মমতাকে শীর্ষে বসানোর দ্বিচারিতা কংগ্রেসের
এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের অগস্টে। ত্রিপুরায় দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের কয়েকজন যুবনেতার উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় আহত হন সুদীপ রাহা ও জয়া দত্ত। এরপর কয়েকজন তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলে খোয়াই থানায় অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন অভিষেক ও কুণাল ঘোষ। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ত্রিপুরা পুলিশ মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলাতেই এবার আদালতের সমন জারি হয়েছে।
অন্যদিকে, সই জালিয়াতি মামলায়ও চাপের মুখে রয়েছেন অভিষেক। সূত্রের দাবি, তিনি পরপর তিনবার সিআইডির সমন এড়িয়েছেন। তৃতীয় সমনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিনি দিল্লি যান, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ নেন। তাঁর এই অনুপস্থিতিকে ঘিরে তদন্তকারীরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ত্রিপুরা মামলার আদালত-সমন এবং সই জালিয়াতি তদন্ত- দুই দিক থেকেই রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।


