রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটিই বড় প্রশ্ন, নতুন বিজেপি সরকার কি বিগত তৃণমূল সরকারের শুরু করা দুর্গাপূজার মোটা অঙ্কের সরকারি অনুদান দেওয়া বজায় রাখবে? অবশেষে সমস্ত জল্পনা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটালেন নবগঠিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ঢালাওভাবে সবাইকে নয়, বরং যাদের প্রকৃত প্রয়োজন, নতুন সরকার কেবল সেইসব পুজো কমিটির পাশেই দাঁড়াবে।
আরও পড়ুনঃ জলের আকাল হতে পারে? ‘এল নিনো’ নিয়ে বাংলা সহ সব রাজ্যকে বড় বার্তা মোদীর
উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রতিটি নিবন্ধিত দুর্গাপূজা কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে বিপুল সরকারি অনুদান দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৮৫ হাজার টাকার তুলনায় যা এক লাফে ২৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ ছাড়ের পাশাপাশি ফায়ার লাইসেন্সসহ সমস্ত সরকারি ফি সম্পূর্ণ মকুব করার ঘোষণা করেছিল বিগত সরকার।
তবে ২০২৬ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার পর এই নীতিতে বড়সড় বদল আসতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলল। ঢালাও অনুদান দেওয়ার এই চেনা ছক থেকে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন এক সম্পূর্ণ নতুন ‘বাছাই নীতি’র কথা উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ‘রহস্যময়’ ২০ নম্বর সাংসদ! স্পিকারের টেবিলে ১৯ জনের সই
“যাদের প্রয়োজন নেই, তাদের দেওয়ার দরকার নেই“
দুর্গাপূজার অনুদান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপূজার অনুদান দেওয়া নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করব। তবে আমার ব্যক্তিগত ও সরকারের প্রাথমিক নীতি খুব স্পষ্ট। ওই সামান্য সরকারি অর্থ যে সমস্ত বড় বা স্বাবলম্বী পুজো কমিটিগুলোর প্রয়োজন নেই, আমার মনে হয় সরকারি কোষাগার থেকে তাদের এই টাকা দেওয়ার কোনো দরকার নেই।”
বড় বাজেট ও কর্পোরেট স্পন্সর পাওয়া পুজো কমিটিগুলোকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু বাবু আরও যোগ করেন, “যারা ওই অর্থের অভাব হলে পুজোই করতে পারবেন না, তাদের পাশে এই সরকার অবশ্যই থাকবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন সরকার ঢালাও খয়রাতির রাজনীতি বন্ধ করে সরকারি অর্থের সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবহার করতে চাইছে। এখন দেখার, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বৈঠকের পর কোন কোন পুজো কমিটি এই অনুদানের তালিকায় স্থান পায়।


