Saturday, 13 June, 2026
13 June
HomeকলকাতাAbhishek Banerjee: ‘কল্যাণদা মানুষ করেছেন’, অ্যারোগেন্ট ইমেজ ঝেড়ে বিনয়ের বার্তা, নতুন সুর...

Abhishek Banerjee: ‘কল্যাণদা মানুষ করেছেন’, অ্যারোগেন্ট ইমেজ ঝেড়ে বিনয়ের বার্তা, নতুন সুর অভিষেকের

২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এল জবাব।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে যখন বিতর্কের ঝড় বইছে, ঠিক তখনই সিআইডি তদন্ত এড়ানোর তত্ত্ব খারিজ করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁচাছোলা ‘অহংকার’ আক্রমণের জবাব অত্যন্ত কৌশলে ও সংযতভাবে এড়িয়ে গেলেন তিনি। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। ওঁর নিজের মতামত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি আমাকে ছোটবেলা থেকেই দেখছেন, তাই ওঁর বিরুদ্ধে আমি একটি কথাও বলব না।” তবে একই সঙ্গে বিধানসভার সই জাল মামলায় গত বৃহস্পতিবার সিআইডি দপ্তরে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার জেরার পর, শুক্রবার তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে আবারও সিআইডির নোটিশ দিতে আসা নিয়ে সরব হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

আরও পড়ুনঃ দুর্ঘটনা নাকি ‘প্ল্যানড গেম’? স্ক্যানারে রহস্যময় আগুন

এদিন বিকেলে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যখন একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই অন্য একটি মামলায় নোটিশ ধরাতে অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয় সিআইডি-র একটি দল। অভিষেক বাড়িতে না থাকায় তাঁর পরিবারের সদস্য ও অফিসের কর্মীরা নোটিশটি নিতে চাইলেও গোয়েন্দারা তা দিতে অস্বীকার করেন। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি, সিবিআই ও রাজ্য সিআইডি-র করা সমস্ত তদন্তে বরাবর সহযোগিতা করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, “আমি কোনোদিন তদন্ত এড়িয়ে যাইনি। আমার অনুরোধ, পরের বার আসার আগে সিআইডি আধিকারিকরা যেন আমাকে একটু জানিয়ে আসেন, যাতে আমি নিজে উপস্থিত থেকে নোটিশটি গ্রহণ করতে পারি।” উল্লেখ্য, এবারের নোটিশটি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন একটি জনসভায় করা তাঁর ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে বলে সিআইডি সূত্রে খবর।

গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের আগে একটি জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ছিল, “৪ মে-র পর ডিজে বাজবে” এবং “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোন না কেন, ৪ মে-র পর তার জবাব দেওয়া হবে।” এই মন্তব্যটিকে বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে দাবি করে বাগুইআটি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা পরবর্তীতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা হয়ে বর্তমানে সিআইডি-র হাতে এসেছে। এই মামলার তীব্র বিরোধিতা করে অভিষেক কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে “দ্বিমুখী নীতি”র অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুনঃ ওমান উপকূলে পর পর হামলা! ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা উদ্বেগ, মার্কিন কূটনীতিককে ফের তলব নয়াদিল্লির

তিনি প্রশ্ন করেন, “৪ মে-র পর ডিজে বাজবে এই কথা বলার জন্য যদি আমার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, তবে নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন তৃণমূল কর্মীদের সোজা করতে ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন, তখন কেন ওঁর বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর হলো না?” তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির তারকা বিধায়ক সজল ঘোষ এই প্রসঙ্গে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “কোনো তদন্তকারী সংস্থা কি আগে থেকে নোটিশ দিয়ে আসবে যাতে অভিযুক্ত সমস্ত তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে দেওয়ার সুযোগ পায়? তদন্ত নিয়ে যদি ওঁর কোনো ক্ষোভ বা আপত্তি থাকে, তবে উনি আদালতে যেতেই পারেন, কেউ তো আটকে রাখেনি।” একদিকে দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহ এবং অন্যদিকে জোড়া মামলার সিআইডি তৎপরতা দুই ফ্রন্টেই আপাতত আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড।

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন