Monday, 15 June, 2026
15 June
HomeকলকাতাTMC: লোকসভায় আসল তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক?

TMC: লোকসভায় আসল তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক?

ভোট দেবেন এবং তৃণমূলের খাঁচায় থেকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)-কে দেদার সমর্থন জুগিয়ে যাবেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আর কোনো ধোঁয়াশা নয়, আজ ওম বিড়লাকে দেওয়া অভিষেক ব্যানার্জীর চিঠির আসল সারমর্ম শুনুন—

সরাসরি, স্পষ্ট আর আক্রমণাত্মক ভাষায়, এই চিঠির একটাই লক্ষ্য: তৃণমূলের ভেতরে ‘ঘাপটি মেরে থাকা’ বেইমান আর গদ্দারদের চক্রান্তকে গোড়াতেই পিষে ফেলা।

​যে বিদ্রোহীরা দল ভেঙে বিজেপির পদলেহন করার চক্রান্ত করছে, তাদের রুখতে অভিষেক তাঁর চিঠিতে স্পিকারকে পরিষ্কার সতর্কবার্তা দিয়েছেন!

●​কোনো রকম দলছুট গোষ্ঠী বা সমান্তরাল ব্লককে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি, সুযোগ-সুবিধা বা বৈধতা দেওয়া চলবে না।

​●অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। সংসদের ভেতরে দলের লোকসভার সাংসদরা মূল সংগঠনের বাইরে গিয়ে নিজেদের আলাদা কোনো অস্তিত্ব দাবি করতে পারে না। লোকসভায় দলের একটাই অনুমোদিত দলনেতা আর একটাই হুইপ থাকবে।

●​সুপ্রিম কোর্টের চাবুক (শিবসেনা মামলার রায়): অভিষেক সরাসরি ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের ‘সুভাষ দেশাই’ (শিবসেনা মামলা) ঐতিহাসিক রায় তুলে ধরেছেন। সংবিধানের দশম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) অনুযায়ী, “দল ভেঙে আলাদা হওয়া”-র কোনো আইনি প্রতিরক্ষা আর বেঁচে নেই। বিদ্রোহীদের কাছে ২২ জন (২৮ জনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ) সাংসদ থাকলেও, মূল রাজনৈতিক দল যদি অন্য কোনো দলের সাথে অফিশিয়ালি মার্জ বা বিলীন না হয়, তবে এই সংখ্যাতত্ত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

​●স্পিকারের দপ্তর যেন এই বিদ্রোহীদের কোনো চিঠির ভিত্তিতে একতরফা সিদ্ধান্ত না নেয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে অফিশিয়ালি নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতেই হবে।

​●যদি কোনো সাংসদ দলীয় লাইন অমান্য করার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে তাদের সাংসদ পদ খারিজের জন্য তীব্র আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

​এক কথায় পরিষ্কার মেসেজ, ক্ষমতা দখলের লোভে যারা পিছন থেকে ছুরি মারার চেষ্টা করছে, আইন আর সংবিধানের জোরে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সব রকম ব্যবস্থা পাকা করে রাখা হয়েছে!

অভিষেক ব্যানার্জী আইনি হুঁশিয়ারি দিয়ে চিঠি পাঠালেও, দলবদলু তৃণমূল সাংসদদের হাতে এখনও এমন কিছু মারাত্মক চাল রয়েছে, যা দিয়ে তারা এই পুরো খেলাটা ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ উত্তর অধরা, সব কিছুই প্রায় চূড়ান্ত, খবরটি কি ঠিক?

অভিষেক সুপ্রিম কোর্টের ‘সুভাষ দেশাই’ মামলার জুজু দেখালেও, এই বিট্রেয়ার বা গদ্দাররা নিম্নলিখিত রাজনৈতিক এবং আইনি ফাঁকফোকরগুলোর নোংরা ফায়দা তুলতে পারে:

১. সংখ্যাতত্ত্বের বাহুবল (দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা)

​বিদ্রোহী শিবিরে ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ১৯ থেকে ২২ জনের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

​আসল সুবিধা: দলত্যাগ বিরোধী আইন (দশম তফসিল) অনুযায়ী দল ভাঙার জন্য যে সংখ্যার প্রয়োজন, তা এদের পকেটে রয়েছে। অভিষেক যতই চেঁচিয়ে বলুন না কেন যে মূল সংগঠন ছাড়া শুধু সাংসদ ভাঙা অবৈধ, এই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাটা থাকার দরুন এদের চটজলদি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বরখাস্ত করা অসম্ভব। এটা আইনি প্রক্রিয়াকে এতটাই ঝুলিয়ে দেবে যে তড়িঘড়ি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

২. নিজেদের “আসল তৃণমূল” বলে দাবি করা

​এই বেইমানরা নিজেদের কোনো নতুন দল বা সরাসরি বিজেপির অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে না; এরা দাবি করছে যে তারাই লোকসভায় “আসল তৃণমূল কংগ্রেস সংসদীয় দল”।

​আসল সুবিধা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর এরা নিজেদের আসল ম্যান্ডেট বলে প্রচার করছে। এর ফলে লড়াইটা আর ‘দলত্যাগ’-এর জায়গায় থাকছে না, এটা হয়ে যাচ্ছে ‘নেতৃত্বের লড়াই’। এর জোরে তারা অভিষেক বা মমতার নিযুক্ত করা হুইপ (Whip) এবং লোকসভার দলনেতার কর্তৃত্বকে সরাসরি বুড়ো আঙুল দেখাতে পারে।

আরও পড়ুনঃ জুলাইয়েই মমতার আরও ‘বিপদ’ আসছে! সাফ জানালেন সাংসদ

৩. লোকসভার স্পিকারের চেয়ারের ক্ষমতা (আইনি দীর্ঘসূত্রিতা)

​দলত্যাগ বিরোধী আইন বা কোনো গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত এবং একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার হাতে।

​আসল সুবিধা: সোমবার যদি স্পিকার এই বিদ্রোহীদের চিঠি গ্রহণ করে নেন, তবে তিনি চাইলে এই মামলার ফয়সালা মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। আর এই টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে ওই বিদ্রোহী সাংসদরা বহাল তবিয়তে সংসদে বসবেন, ভোট দেবেন এবং তৃণমূলের খাঁচায় থেকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)-কে দেদার সমর্থন জুগিয়ে যাবেন।

​৪. বিজেপির সাথে চুড়ান্ত সংযুক্তিকরণের ব্লুপ্রিন্ট

​অভিষেক তাঁর চিঠিতে ঠিকই বলেছেন যে সংবিধানের ৯১তম সংশোধনী অনুযায়ী, অন্য কোনো দলের সাথে পুরোপুরি বিলীন বা মার্জ না হলে শুধু “দল ভাগ” আইনত টিকবে না।

​আসল সুবিধা: এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ঠিক এই সময়টাকেই ব্যবহার করছে বিজেপির বা এনডিএ-র কোনো শরিক দলের সাথে নিজেদের সংসদীয় ব্লককে পাকাপাকিভাবে জুড়ে দেওয়ার দরকষাকষির জন্য। ২০ জনেরও বেশি সাংসদ নিয়ে যখন এরা দল বেঁধে এনডিএ-তে যোগ দেবে, তখন লোকসভায় মোদী সরকারের আসন সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। এর বিনিময়ে এরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপদ বা বিপুল ক্ষমতা আদায় করে নেওয়ার জন্য ব্ল্যাকমেইল করার চরম সুযোগ পেয়ে যাবে।

​স্পিকার যদি একবার মেনে নেন যে সংসদীয় দলের ভেতরে একটা বৈধ নেতৃত্বের লড়াই চলছে, তবে অফিশিয়াল তৃণমূলের জারি করা হুইপ বা নির্দেশের আইনি জোর খতম হয়ে যাবে। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় এই বিদ্রোহীরা দলের নির্দেশকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবে, আর অফিশিয়াল নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলবে—”ক্ষমতা থাকলে আমাদের কোর্টে টেনে নিয়ে গিয়ে দেখাও!”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন